Sunday, January 27, 2019

কবুতরের কিছু সাধারণ সমস্যা ও সমাধান

কবুতর পালতে গিয়ে প্রথম পর্যায়ে নানা অসুবিধার সম্মুখীন হন অনেকেই, আমিও হয়েছি। আর তাই সবসময়ই চেষ্টা করি যেন ,আমি যে অসুবিধা গুলোর সম্মুখীন হয়েছি সে রকম যেন আর কাউকেই পড়তে না হয়। তাই সাধ্যমত চেষ্টা করি । বিভিন্ন ভাবে কিন্তু যতই দিন যাচ্ছে ততই হতাশ হচ্ছি।
ছোটবেলায় শুনেছিলাম যে ভুতের নাকি উল্টো পায়ে হাঁটে। কিন্তু আজ অনেকদিন পর মনে হল যেন আমরাও ঠিক ভুতের মত উল্টো পায়ে হাঁটছি । বাসে উঠতে গেলে একসঙ্গে ১০ জন উঠার চেষ্টা করি,অফিস এ একজন আরেক জনের উপর ল্যাঙ মারার চেষ্টা করি। আমরা মাঝেমাঝে ভুলে যাই একজন উঠলেই আরেকজন উঠবে। কিন্তু আমার তা করি না। যাই হোক, আমি আমার একটা পোস্ট এ বলেছিলাম আমরা পড়তে পছন্দ করি না। সব কিছুই তৈরি চাই। আর তাই হয়তো সমস্যা দিনদিন কমাতো দূরে থাক উল্টো বাড়ছে। সামাজিক সাইট গুলোতে কবুতর সংক্রান্ত যে ধরণের অসম্পন্ন প্রশ্ন দেখা যায়, যেমনঃ
১) আমার কবুতর লোম ফুলিয়ে বসে থাকে বা লোম ফুলিয়ে থাকে,কি করবো ?
ব্যাখ্যাঃ কোন বিস্তারিত তথ্য নাই,বুঝার কোন উপায় নাই কি উপদেশ দেয়া যাবে ! আর অনেককে প্রশ্ন করে অপেক্ষা করতে হয়,কারন তিনি ঠিকমত খেয়াল করেননি ।!
২) আমার কবুতরের খাওয়া দাওয়া কমে গেছে, কি করবো ?
ব্যাখ্যাঃ কোন বিস্তারিত তথ্য নাই,কারও সাধ্য নাই,কি বলবে !
৩) আমার কবুতর পানি পায়খানা করছে, কি করবো ?
ব্যাখ্যাঃ কি ধরনের কোন নির্দেশনা নাই !
৪) আমার কবুতর গোসল দিবার পর ঝিমাচ্ছে, কি করবো ?
ব্যাখ্যাঃ খুবই স্বাভাবিক, তারপরও মানুষ ঔষধ দিয়ে বসে !
৫) আমার কবুতর পাতলা পায়খানা করছে / ঠাণ্ডা লাগেছে অ্যান্টিবায়টিক দিচ্ছে কিন্তু কোন কাজ হচ্ছে না, কি করবো ?
ব্যাখ্যাঃ যদিও অ্যান্টিবায়টিক এই ধরনের রোগে কোন কাজ করে না তারপরও দেয়া হয় !
এছাড়াও অ্যান্টিসেপটিক ঔষধ কোথায় পাওয়া যায় হোমিও কোথায় পাওয়া যায়।
এই ধরনের নানা অনর্থক নানা প্রশ্ন দেখা যায়। আমরা ছোট বেলায় পড়ে ছিলাম,”গ্রন্থগত বিদ্যা আর পর হস্থেধন, নহে বিদ্যা নহে ধন হলে প্রয়োজন ।“ যে কোনো রোগের প্রশ্ন জিজ্ঞাস করলে। যে ব্যাপারে সজাগ থাকতে হবে, বা যে কোনো প্রশ্ন জিজ্ঞাস করার আগে কিছু তথ্য দিলে ভাল হয়,কি সেগুলোঃ
১) সমস্যা কয় দিনের?
২) পায়খানা কেমন রঙ এর?
৩) কিছু প্রাসঙ্গিক তথ্য… রোগ সম্পর্কিত, কোন ভিটামিন,বা ঔষধ দেয়া হইছিল কিনা ?
৪) মুখে ঘা আছে কিনা, কোন গন্ধ আছে কিনা ? খাওয়া দাওয়া করে কিনা ? ইত্যাদি
আমি বিভিন্ন সময়ে পোস্ট/কেসস্টাডি এর সাথে PMV(প্যারামক্সিভাইরাস) ও ডিপথেরিয়া রোগ নির্ণয়ও তার প্রতিকার সম্পর্কে বলেছিলাম। যদিও সবাই প্যারামক্সি ভাইরাসকেই বেশী গুরুত্ব দেন, আর সে ব্যাপারে যত তোড়জোড় করেন, কিন্তু দুর্ভাগ্য জনক হলেও সত্য যে ডিপথেরিয়াকে নিয়ে এমন কোন ব্যাবস্থা দেখা যায় না। যদিও আমাদের দেশে PMV(প্যারামক্সিভাইরাস) যত কবুতর মারা যায় তার থেকেও বেশী কবুতর মারা যায় ডিপথেরিয়া নামক রোগে যদিও কিছু লোক এগুলোকে PMV (প্যারামক্সি ভাইরাস) বলে চালিয়ে দেন । কিন্তু সেগুলো আসলে প্যারামক্সি ভাইরাস না। এই দুইটা রোগের বাইরেও আরেকটা নিরব ঘাতক আছে কবুতরের সেটা হল ম্যালেরিয়া। আর এই সকল রোগের পোস্ট পর্যায়ক্রমে দিবার খুবই ইচ্ছে ছিল, কিন্তু নকল বাজ লোকদের কারণে বন্ধ করে দিয়েছি। আর এই সকল রোগের বর্ণনা আমার বইয়ে থাকবে (ইনশা আল্লাহ)। আসুন এই রোগ নির্ণয়ে বা রোগ জিজ্ঞাসার আগে নিজেকে তৈরি করে নিই ।
১) আপানর কবুতর এর কি ঘাড় বা অন্য কোন অঙ্গ অবস ?
২) আপানর কবুতর এর কি মুখে গন্ধ আছে ?
৩) খাবার বা পানি খেলে কি মুখ নাক দিয়ে বের হয়ে আসে ?
৪) গা বা শরীর গরম বা ঠাণ্ডা ?
৫) পায়খানা কি সবুজ সাদা ?
৬) নাক দিয়ে সর্দি ঝরে ?
৭) মুখ দিয়ে কি ঘড়ঘড় শব্দ হয়?
৮) মুখে কি সাদা বা হলুদ ঘা আ আছে?
৯) চোখ কি ফুলে ও পানি ঝরে?
১০) নাক দিয়ে রক্ত পড়ে মাঝে মাঝে ?
যদি এই সব প্রশ্ন মিলে যায় তাহলে, আপনার কবুতরের ডিপথেরিয়া হয়েছে, কোন সন্দেহ বা ভুল নাই। আর অনতি বিলম্বে চিকিৎসা শুরু করেন। আর ভাল হলেও চিকিৎসা বন্ধ করবেন না কারন এই রোগের চিকিৎসা ও রোগ পরবত্তি পথ্য অনেক বেশী জরুরি। আর এর আনুমানিক সময় ৩-৪ মাস লাগে। আপনার যদি আরও কিছু প্রশ্নের উত্তর খুজার চেষ্টা করুন, যেমনঃ
১) আপনার কবুতর এর কি খাবার জমে থাকে পাকস্থলীতে ?
২) আপনার কবুতর এর কি মুখ দিয়ে গরম পানি বের হয় চাপ দিলে বা এমনিতে ?
৩) আপনার কবুতর এর কি গাআ গরম থাকে আর বসে থাকে চুপ করে ?
৪) আপনার কবুতর কি কাঁপে ?
৫) বুকের হাড্ডির নিচে কি প্রচুর খুস্কি ?
৬) লোম ফুলিয়ে বসে থাকে ?
৭) উড়তে গেলে কি হাপিয়ে যায় বা বেশী উড়েনা ?
৮) কবুতর এর ঠোঁট কি ফ্যাঁকাসে সাদা যা গোলাপি ভাব নাই বা শুকনো সাদা সাদা ভাব লেগে থাকে?
৯) কবুতরের গায়ে কি মাছি আছে ?
যদি এই সকল প্রশ্নের উত্তর পান তাহলে আপনার কবুতরের ম্যালেরিয়া হয়েছে। আর এটা ৭-৮ সপ্তাহ আপনাকে সময় দিতে হবে সুস্থ হতে। আর এগুলো শুধু তখনি সম্ভব যখন আপনি আপনার কবুতরের খামারে সময় দিবেন। তাদের আচার আচরণ লক্ষ্য করবেন। এখনে আমি রোগের কোন চিকিৎসা ব্যাবস্থা দিলাম না, কারন এগুলো খুবই স্পর্শকাতর ঔষধ তাই এগুলর যেমন ইচ্ছে ব্যাবহার ঠিকনা। একটা ব্যাপার অবশ্যই খেয়াল রাখবেন, এই সবরোগের চিকিৎসা ৫-৭ দিনে সম্ভব না, তাই ২ দিনে এর ফলাফল আশা করবেন না। কারন কিছু লোক অল্পতেই তাদের আশা হারিয়ে ফেলেন, তারা ২-৩ দিনেই ফলাফল চান। আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে আপনি আপনার কবুতর গুলোকে কি ঔষধ দিচ্ছেন আর কার উপদেশে দিচ্ছেন সেটা একটা বিবেচনার বিষয়। আপনি যদি সাল্মনেল্লা জন্য ercot or cosmix plus দেন তাহলে আর বলার কিছুই নাই। তাই এখনি আপনার সঠিক সময় আপনার কবুতরের সঠিক চিকিৎসা করার।একটু ঠাণ্ডা মাথাই চিন্তা করুন ও তারপর চিকিৎসা শুরু করুন। একটু চিন্তা করুন আপনার এটা হলে আপনি কি ঔষধ খেতেন। তাহলেই আপনার সঠিক সমাধান পেয়ে যাবেন। আল্লাহ্ আমাদের সবাইকে সঠিক জ্ঞান দান করুন। (আমীন)।

No comments:

Post a Comment

কোয়েল পালন সম্পর্কিতপ্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্নঃ  কোয়েল কত দিনে ডিম দেয় ? উত্তরঃ  কোয়েল পাখি সাধারনত ৪৫ দিন বয়স থেকে ডিম দিতে শুরু করে । তবে বাস্তবে প্রায় ৫৫ - ৬০ দিন সময় লেগে ...