Showing posts with label গাভী পালন. Show all posts
Showing posts with label গাভী পালন. Show all posts

Saturday, January 26, 2019

বাছুরকে কি খাদ্য দিবেন


জন্মের পরে অনেক বাছুর খাদ্যের অভাবে রোগাক্রান্ত ও দুর্বল হয়ে পড়ে। এজন্য বাছুরকে নিয়মিত মায়ের দুধের পাশাপাশি সুষম ও দানাদার খাদ্য দিতে হবে। যেমন-
১. মায়ের দুধ
বাছুর জন্মের প্রথম ২০-৩০ দিন একটানা মায়ের দুধ খাওয়াতে হবে৷
২. দুধ ও সুষমজাতীয় খাদ্য মিশিয়ে খাওয়ানো
বাছুরের জন্মের ১০-১৫ দিন পর থেকে মায়ের দুধের পাশাপাশি সুষম জাতীয় দানাদার খাবার খাওয়ানোর অভ্যাস করতে হবে৷ যেমনঃ গম ভাঙ্গা-৪০ গ্রাম, ভুট্টা ভাঙ্গা-৪০ গ্রাম, গমের ভূষি-২০ গ্রাম, লবণ-১ গ্রাম। শতকরা হারে এগলো খাওয়াতে হবে।
একই সময় থেকে দুধ ও সুষম খাবারের পাশাপাশি নরম ঘাস, লতা-পাতা, খড় ইত্যাদি খাওয়ানোর অভ্যাস করাতে হবে।
৩. দানাদার খাদ্য
১. বাছুরের বয়স ৮ সপ্তাহ হলে প্রতিদিন ৫০০ গ্রাম দানাদার খাদ্য যেমন- গম ভাঙ্গা, ভুট্টা ভাঙ্গা, গমের ভুষি ইত্যাদি এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে কাঁচা ঘাস খাওয়াতে হবে৷
২. বাছুরের বয়স ৬ মাস হলে ঘাস, খড়, ইত্যাদির পাশাপাশি অতিরিক্ত প্রতিদিন ২ কেজি হারে দানাদার খাদ্য দিতে হবে৷

৩. দৈনিক প্রচুর পরিমাণে কাঁচা ঘাস বা উন্নতমানের আশ জাতীয় ঘাস থাকলে দানাদার খাদ্য কম দিলেও চলে৷ প্রচুর পরিমাণে পানি, ৭-৭.৫ গ্রাম লবন ও খনিজ মিশ্রিত করে বাছুরকে সর্বদা খাওয়াতে হবে৷

গবাদি পশুর কতিপয় রোগের কারণ, লক্ষণ ও প্রতিকার

খামারে পালিত গবাদি পশুর মাঝে মাঝে নানা রোগ ব্যাধি দেখা দেয়। তখন খামারীদের চিন্তার অন্ত থাকেনা। এমনকি উৎপাদন কমে যায়। এসব বিষয় খামারীদের  প্রাথমিক জ্ঞান থাকা অবশ্যক। তাই আসুন জেনে নেই গবাদি পশুর কতিপয় রোগ ও তার প্রতিকার।
ককসিডিওসিস বা রক্ত আমাশয় কারনঃ গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়ার ককসিডিয়া বা আইমেরিয়া নামে এক প্রকার প্রোটোজোয়া কৃমির সংক্রমণের ফলে এই রোগ দেখা যায়।
লক্ষণঃ
হঠাৎ করে দুর্গন্ধযুক্ত পাতলা পায়খানা হয়।
             ডায়রিয়া সহজে কমতে চায় না।
             কয়েক দিন পর পায়খানার সাথে রক্ত ও মিউকাস দেখা যায় এবং আমাশয়ের মত লক্ষণ দেখা দেয়।
             লেজের গোড়ায় রক্ত মিশ্রিত মল লেগেকে। তীব্র কোথ দেয়ার ফলে অন্ত্র থেকে মল বেরিয়ে আসে এবং রেকটাল প্রলাপস হওয়ার সম্ভবনা থাকে।
             পশু দুর্বল হয়ে যায়।
             পশুর খাদ্যে অরুচি দেখা যায় এবং শুকিয়ে যায়।
             পশুর শরীরে খিচুঁনি দেখা দেয়।
চিকিৎসাঃ
ক. ডিমিডিন ইনজেকশনঃ প্রথম দিন প্রতি ৫০ কেজি দৈহিক ওজনের জন্য ২৫ থেকে ৩০ মিলি করে মাংসে বা চামড়ার নীচে বা শিরায় ইনজেকশন দিতে হবে। দ্বিতীয় দিন থেকে উক্ত মাত্রার অর্ধেক হিসেবে পরপর ৩-৫ দিন প্রয়োগ করতে হবে। অথবা
খ. সালকাট্রিম বোলাসঃ প্রতি ৪০ কেজি দৈহিক ওজনের জন্য একটি বোলাস দৈনিক একবার বা দুইটি বিভক্ত মাত্রায় ৩-৫ দিন খাওয়াতে হবে।
প্র্রতিরোধঃ এরোগ বিক্ষিপ্ত প্রকৃতির রোগ বলে গ্রাম ভিত্তিকভাবে প্রাণীতে এ রোগ নিয়ন্ত্রণ সহজ হয়না। তবে কর্মের ক্ষেত্রে এ রোগ নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
ক. স্বাস্থ্য সম্মত পালন ব্যবস্থা।
খ. বাচ্চা প্রসবের ঘর বা স্থান পরিস্কার ও শুস্ক থাকা আবশ্যক।
গ. ঠাসাঠাসি ভাবে পালন করা উচিৎ নয়।
ঘ. পশুর সকল খাদ্য ও পানীয় যাতে মলের সাথে লেগে দুষিত না হয় সে ব্যবস্থা করতে হবে।
ঙ. রাসায়নিক প্রতিরোধ- প্রতিরোধ মাত্রায় নির্দিষ্ট সময় ঔষধ খাওয়ালে এরোগ প্রতিরোধ করা যায়।
পোকাপড়া রোগ বা স্ক্রুওয়ার্ম মিয়াসিস কারনঃ প্রধানত কচলিওওমায়া হোমিনিভোরাক্স ও ক্রিসোমায়া বেজিয়ানা দ্বারা পোকাপড়া রোগ  বা স্ক্রুওয়ার্ম মিয়াসিস হয়ে থাকে। এটি একটি মাছি ঘটিত রোগ। ‘স্ক্রুওয়ার্ম’ বলা হয়। এসব মাছির লার্ভা ত্বকের ক্ষত আক্রান্ত করে এরোগ সৃষ্টি করে। তাই এরোগকে ক্ষত মিয়াসিস বলে।
লক্ষণঃ
             লার্ভা ক্ষত ছিদ্র করে গর্তের সৃষ্টি করে।
             আক্রান্ত টিস্যুকে ক্রমশঃ নিক্রোসিস (পঁচা) ও রক্ত ক্ষরণ হয়।
য় ক্ষতে রক্ত ক্ষরণের কারণে অ্যামোনিয়া ও প্রোটিনের পরিমাণ হ্রাস পায়।
             ক্ষত থেকে বাদামী বর্ণের দুর্গন্ধযুক্ত নিঃস্রাব পড়ে যা অন্যান্য প্রজাতির মাছিকে আকৃষ্ট করে।
             এই ক্ষতে অন্যান্য মাছিও ডিম দেয় এবং একই সাথে বহু প্রজাতির মাছির আক্রমণ ঘটে।
             জ্বর, টকসেমিয়া ও ডিহাইড্রেশন দেখা যায়।
             চিকিৎসাবিহীন অবস্থায় পশু মারা যাওয়ায় সম্ভাবনা থাকে।
চিকিৎসাঃ
             লার্ভানাশক ও জীবাণু নাশক পদার্থ দ্বারা পোকাপড়া ক্ষতের চিকিৎসা করা হয়। প্রথমে ক্ষতস্থান থেকে লার্ভা গুলো চিমটার সাহায্যে তুলে ৭০% অ্যালকোহল যুক্ত বোতলে সংগ্রহ করতে হয়। সমপরিমান তারপিন তেল ও ক্লোলকর্মে গজ চুবিয়ে ক্ষতের একেবারে ভিতরে ঢুকিয়ে দিয়ে পর দিন গজ টানলে গজের প্রান্তে লার্ভাগুলো দেখা যাবে এবং পরে ক্ষত পরিস্কার করে  ডাস্টিং পাউডার দিয়ে ক্ষত ড্রেসিং করতে হবে। এছাড়া ক্রেসল ও তারপিন তেল প্রয়োগে কার্যকর হয়।
             লার্ভানাশক হিসেবে ৫% লিনোডন অথবা ৩% কোয়ামাকোস ব্যবহার কার্যকরী।
             আইভারমেকটিন ০.২ মি.গ্রা./কেজি হিসেবে ত্বকের নীচে একবার ইনজেকশন দিলে ২ দিনের মধ্যে সকল লার্ভা মারা যায় এবং ১৬-২০ দিন প্রতিরোধ করে।
প্রতিরোধঃ
             মাছির উপদ্রব নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
             দেহে যাতে ক্ষত সৃষ্টি না হয় সে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
             সম্ভব হলে ক্ষতস্থান পলিথিন বা কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে যাতে মাছি না পড়ে। যথা সম্ভব ক্ষতস্থানের চিকিৎসা করতে হবে।
             আইভারমেকটিন ০.২ মি.গ্রা./কেজি হিসেবে খোঁজা করার সময় ত্বকের নীচে ইনজেকশন দিলে ১৬-২০ দিন এরোগ থেকে প্রতিরোধ করতে সক্ষম হয়।
             বায়োলজীক্যাল প্রতিরোধ-পিউপাকে কালচার করে  কোবাল্ট ৬০ দ্বারা ইরেডিয়েশনের মাধ্যমে পুরুষ মাছিকে বন্ধা করে ছেড়ে দিলে স্ত্রী মাছির সাথে মিলন হয়ে অনুর্বব ডিম সৃষ্টি হয় ফলে মাছির বংশ বিস্তার রক্ষা হয়।
কাধে ঘা কারনঃ
             ষ্টেকানোফাইলেরিয়া আসাসেনসিস নামক কৃমিই এরোগের জন্য দায়ী।
             গবাদি পশুর লাঙ্গল পানা বা অন্যান্য ঘর্ষণের ফলে কাধে ছোট ছোট ক্ষতের সৃষ্টি হয়। যেখানে মাছির মাধ্যমে উপরোল্লিখিত কৃমির ডিমের সংক্রমণ ঘটে এবং ধীরে ধীরে বিরাট ক্ষতের সৃষ্টি হয়। যেহেতু এটি কৃমি জনিত ঘা তাই এখানে এন্টিবায়োটিক পাউডার বা মলম লাগিয়েও কোন উপকার পাওয়া যায় না।
লক্ষণঃ
             গবাদি পশুর কাধে প্রথমে ছোট ক্ষতের সৃষ্টি হয় এবং ধীরে ধীরে তা অনেক বড় হয়ে যায়।
             এতে খুব বেশী চুলকানী হয় ফলে পশু যেকোন শক্ত বস্তুুর সাথে কাধ ঘষে।
             ঘর্ষণের ফলে রক্ত বের হয় বা লাল রং এর পানির মত পদার্থ বের হয়।
             ঘায়ের উপরের অংশে কেরোটিন জমে শক্ত হয়ে যায়।
             পশু খুব অস্বস্তি বোধ করে ফলে খাওয়া দাওয়া কমে যায়।
             গাভীর দুধ উৎপাদন কমে যায়।
             পশু লাঙ্গল বা গাড়ী টানতে পারে না।
চিকিৎসাঃ ক. নেগুভোনঃ  ৬-২০% ভ্যাসলিনের সাথে মলম তৈরী করে  দিনে ২-৩ বার লাগানো যায়। তবে নেগুভোন ও সালকানিলামাইড সমন্বয়ে ভ্যাসলিন দিয়ে তৈরী মলম অধিক কার্যকরী। মলম প্রয়োগের পূর্বে ক্ষতস্থানের বিনষ্টকলা পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট (১:১০০০০০) সলূশন দিয়ে পরিস্কার করে নিতে হবে। অত:পর ২-৩ বার করে মোট ১০ দিন প্রয়োগ করলে ১৫ দিনের মধ্যে আরোগ্য লাভ হয়।
এছাড়া নেগুভোন তিসির তেল বা কাষ্টর ওয়েলের সাথে মিশিয়ে ব্যবহার করা যায়।
খ. টেট্রামিজল হাইড্রোক্লোরাইড (৭.৫%) মলম ৩-৪ দিন প্রয়োগে ১০০% পশু ভাল হয়।
গ. আইভারমেকিটনঃ প্রতি কেজি দৈহিক ওজনের জন্য ২০০ মাইক্রোগ্রাম হিসেবে ২৮ দিনের ব্যবধানে ত্বকের নীচে মোট দুটি ইনজেকশন বেশ কার্যকর। যেমন- ভার্মিক ইনজেকশন- ০.২ মি.গ্রা. প্রতি কেজি দৈহিক ওজন হিসেবে অর্থাৎ ৫০ কেজি দৈহিক ওজনের জন্য ১ মি.লি. হিসেবে চামড়ার নীচে ইনজেকশন দিতে হবে এবং ২৮ দিন পর পুনরায় দিতে হবে।
প্রতিরোধঃ
             ক্ষতস্থানে যাতে কোন মাছি না বসে সে দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। এ উদ্দেশ্যে ক্ষতস্থান পলিথিন বা কাপড় দিয়ে ঢেকে দেয়া উত্তম।
             কীটনাশক পদার্থ বা মাছি তাড়ানোর ঔষধ ব্যবহার করা ভাল। এক্ষেত্রে তারপিন তেল ক্ষতে প্রয়োগ করা হয়।
             ক্ষতের সুষ্ট চিকিৎসার মাধ্যমে কৃমি ধ্বংস করে রোগের উৎস বন্ধ করতে হবে।
উকুন, আঠালী ও মাইট আক্রমণ কারনঃ উকুন, আঠালী ও মাইট বহি:পরজীবী। বিভিন্ন ধরণের উকুন, আঠালী ও মাইট দ্বারা পশু আক্রমণ হতে পারে। এরা পশুর শরীরের উপরিভাগে অর্থাৎ চামড়ায় বসবাস করে এবং শরীর থেকে রক্ত চুষে বেঁচে থাকে। কোন কোন ক্ষেত্রে এরা বিভিন্ন ধরণের রোগ এক পশু থেকে অন্য পশুতে ছড়িয়ে দেয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এরা রক্ত চুষে নিয়ে পশুর শরীরের রক্ত স্বল্পতা সৃষ্টি করে।
লক্ষণঃ
             পশুর লোম উসকু খুসকু হয়ে যায় এবং অনেক সময় লোম ঝরে যায়।
             পশুর ঘাড়ে চুলকানী হয় এবং শক্ত বস্তুর সাথে শরীর ঘষার ফলে অনেক সময় চামড়া উঠে যায়।
             পশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যহত হয় এবং দুধ উৎপাদন কমে যায়।
             রক্ত স্বল্পতা দেখা যায়।
             আঠালী এনাপ্লামোসিস ও বেবিসেয়োসিস নামক রোগের জীবাণু বহন করে  বলে এসব রোগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
চিকিৎসাঃ উকুন, আঠালী ও মাইট আক্রমণ হলে নিম্নের ঔষধ দ্বারা চিকিৎসা করতে হবে-
             ভার্মিক ইনজেকশন (আইভারমেকটিন)ঃ ০.২ মি.লি.গ্রাম/কেজি দৈহিক ওজন হিসেবে অর্থাৎ প্রতি ৫০ কেজি দৈহিক ওজনের জন্য ১ মি.লি. হিসেবে চামড়ার নীচে প্রয়োগ করতে হবে।
             নেগোসাইট পাউডার (নেগোডন পাউডার)ঃ প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম পাউডার মিশিয়ে পশুর শরীরে ¯েপ্র করতে হবে অথবা পানিতে ন্যাকড়া ভিজিয়ে সমস্ত শরীরে লাগিয়ে দিতে হবে। ২১ দিন পর এভাবে পুনরায় প্রয়োগ করতে হবে। হালকা গরম পানিতে নেগোসাইট পাউডার মিশালে ভাল ভাবে মিশে যায় এবং ভাল ফল পাওয়া যায়।
সতর্কতাঃ
             লেগুডন পাউডার প্রয়োগের পূর্বে ও কিছু পর পর্যন্ত পশুকে খাবার গ্রহণ থেকে বিরত রাখতে হবে এবং পশুর মুখে অবশ্যই ঠুসি পরিয়ে রাখতে হবে।
             ঔষধ ব্যবহারের দুই ঘন্টা পরে ঠান্ডা পানি দিয়ে শরীর ভাল ভাবে ধুয়ে দিতে হবে।
প্রতিরোধঃ উকুন আক্রমণ প্রতিরোধের জন্য- ক. পশুর উকুনের চিকিৎসায় লিন্ডেন ০.০৫%, ম্যালাথিওন ০.৫% ও টক্সেফেন ০.৫% পশুর শরীওে ¯েপ্র বা ব্রাশের সাহায্যে ব্যবহার করা যায়।
খ. কতিপয় কীটনাশক পদার্থ সাইপারমেথ্রিন-১০০০ পি.পি.এম ¯েপ্র হিসেবে উকুনের বিরুদ্ধে কার্যকর।
আঠালী আক্রমণ প্রতিরোধের জন্য-
ক. কীটনাশক পদার্থ প্রয়োগ যথা-কোয়ামাফস-০.১-০.১৫% প্রয়োগ করে ১০০% কার্যকর এবং ডায়াজিনোন- ০.০২৫-০.২০% ¯েপ্র করতে হয়।
খ. চারণভূমি ব্যবস্থাপনা।
গ. রেজিস্ট্যান্ট পশু সৃষ্টি।
মাইটের আক্রমণ প্রতিরোধের জন্য-
ক. বেনজিন হেক্সাক্লোরাইড (০.০১৬%) ডায়াজিনোন (০.০১%) ও প্রোপেটামফোস (০.০১২৫%) মোষ একবার ডিপিংয়ে কার্যকর এবং প্রায় ৪ সপ্তাহ প্রতিরোধ করতে সক্ষম হয়।
খ. ট্রাইক্লোরফেন- ০.৫-১.৫% আক্রান্ত মহিষের শরীর প্রত্যহ ধৌত করলে ৫ দিনে আরোগ্য লাভ করে।
গ. টক্সোফেন  (০.৫%) গরুতে একবার ডিপিং পদ্ধতিতে প্রয়োগে মাইটের বিরুদ্ধে ভাল কার্যকর ফল পাওয়া যায়।


গবাদিপশুকে কৃমি মুক্ত রাখার পদ্ধতি জেন নিন

বর্তমানে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে গবাদিপশু পালন লাভজনক ও বেকার সমস্যা সমাধানের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হওয়ার ক্ষমতা রাখে। কিন্তু আমাদের খামারিরা গবাদিপশু পালন করতে গিয়ে একটি সমস্যার সম্মুখীন হয়, তা হলো পরজীবী বা কৃমি। কৃমি এক ধরনের পরজীবী যা পশুর ওপর নির্ভর করে জীবন ধারণ করে। তারা পশুর অন্ত্রে, ফুসফুসে, লিভারে, চোখে, চামড়ায় বাস করে ও পশুর হজমকৃত খাবারে ভাগ বসিয়ে পশুর ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে। অনেক কৃমি পশুর রক্ত চুষে ও আমিষ খেয়ে পশুকে দুর্বল ও স্বাস্থ্যহীন করে ফেলে।
পরজীবী সাধারণত দুই ধরনের-
১. দেহের ভেতরের পরজীবী
২. দেহের বাইরের পরজীবী।
একটি পরিসংখ্যানে দেখা যায়, দেশের প্রাণিসম্পদ হাসপাতালগুলোতে গত বছর (২০১০) বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত গবাদিপশুর (গরু, ছাগল, ভেড়া) মধ্যে ৫১.৩৬ ভাগ কৃমি বা পরজীবী দ্বারা আক্রান্ত। এর মধ্যে আক্রান্ত গরুর মধ্যে ৬৮.৯২ ভাগ, আক্রান্ত গাভীর মধ্যে ৪৫.১৬ ভাগ, বাছুরের মধ্যে ৫০.০৭ ভাগ, ভেড়ার মধ্যে ৬১.৬৬ ভাগ এবং আক্রান্ত ছাগলের মধ্যে ৩৪.৭৯ ভাগ বিভিন্ন কৃমি বা পরজীবী দ্বারা আক্রান্ত হয়। সুতরাং কৃমি বা পরজীবী আমাদের গবাদিপশু পালনের প্রধান শত্রু। কৃমি বা পরজীবীগুলো হচ্ছে কলিজাকৃমি, পাতাকৃমি, গোলকৃমি, রক্তকৃমি, ফিতাকৃমি, প্রটোজয়া ও বিভিন্ন ধরনের বহিঃপরজীবী উকুন, আঠালী, মাইট ইত্যাদি গবাদিপশুকে আক্রান্ত করে। কৃমির কারণে গাভীর দুগ্ধ উত্পাদন ক্ষমতা কমে যায় অস্বাভাবিকভাবে এবং বাছুরগুলো পেট ফুলে গিয়ে স্বাস্থ্যহীন হয়ে পড়ে। ফলে দুগ্ধ ও মাংস উত্পাদন ক্ষমতা মারাক্তকভাবে ব্যাহত হয়। এর কারণে বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ফাঙ্গাস গবাদিপশুকে আক্রান্ত করার পরিবেশ তৈরি করে।
গবাদিপশুকে কৃমি বা পরজীবী থেকে মুক্ত রাখার উপায়গুলো হচ্ছে-
১) গবাদিপশুর বাসস্থানের জন্য নির্ধারিত স্থানের মাটি শুষ্ক ও আশপাশের জমি থেকে উঁচু হওয়া প্রয়োজন। সম্ভব হলে নদীনালা, খালবিল, হাওর-বাঁওড় থেকে দূরে করতে হবে।
২) গবাদিপশুর খামারের আশপাশে যেন বৃষ্টির পানি এবং অন্যান্য বর্জ্য জমে না থাকে ।
৩) খামারের জন্য নির্ধারিত স্থানের মাটিতে বালির ভাগ বেশি হওয়া প্রয়োজন যেন বর্ষাকালে খামারের মেঝে কর্দমাক্ত না হয় ।
৪) পশুর মলমূত্র ও আবর্জনা অল্প সময় পরপর পরিষ্কার করতে হবে। লক্ষ্য রাখতে হবে যেন ঘরে মলমূত্র ও আবর্জনা জমা না থাকে।
৫) খামারের অনেক দূরে পশুর মলমূত্র ও আবর্জনা পুঁতে রাখতে হবে।
৬) গবাদিপশুর বাসস্থান প্রতিদিন আদর্শ ডিটারজেন্ট দিয়ে ধুয়ে এবং জীবাণুনাশক মেশানো পানি দিয়ে জীবাণুমুক্ত করতে হবে।
৭) তিন মাস অন্তর গবাদিপশুকে কৃমিনাশক ওষুধ খাওয়াতে হবে।
কলিজাকৃমি, পাতাকৃমি, গোলকৃমি, রক্তকৃমি, ফিতাকৃমি দ্বারা আক্রান্ত পশুকে অ্যালবেনডাজল ইউএসপি ৬০০ মি.গ্রা., হেক্সাক্লোরোফেন ইউএসপি ১ গ্রাম, লিভামিসোল হাইড্রোক্লোরাইড বিপি ৬০০ মি.গ্রা. এবং ট্রাইক্লাবেন্ডাজল আইএনএস ৯০০ মি.গ্রা. জাতীয় ওষুধ ভালো কাজ করে। কর্কসিডিয়াতে সালফোনামাইডস, স্ট্রেপটোমাইসিন ও মেট্রোনিডাজল ব্যবহার করলে ভালো ফল পাওয়া যায়। ট্রিপানোসোমা ও ব্যাবেসিওসিস তে ব্যাবকপ খাওয়ালে রোগ ভালো হয়। উঁকুন, আঠালী ও মাইটে আক্রান্ত গবাদিপশুর শরীরে আইভারমেকটিন, সেভিন, নেগুভান ইত্যাদি ওষুধ ব্যবহার করলে ওইসব পরজীবী থেকে গবাদিপশুকে রক্ষা করা যায়। পরিশেষে আমাদের গবাদিপশুকে কৃমি বা পরজীবীমুক্ত রাখতে পারলে আমরা দুগ্ধ ও মাংস উত্পাদনের লক্ষ্যে পৌঁছাব।


গবাদিপশুর ভ্যাকসিন ও কৃমিনাশক ঔষধ ব্যবহারের নিয়মাবলী (ভ্যাকসিন বা টিকাবীজ)

টিকাবীজ (Vaccine) হলো এমন একটি দ্রবন যা নির্দিষ্ট কোন রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলে। আর এ জন্যই নির্দিষ্ট রোগের জিবানু দিয়েই এই টিকাবীজ (Vaccine) তৈরী করা হয়ে থাকে। বিভিন্ন রোগের ভ্যাকসিন ভিন্ন ভিন্ন মাত্রা, প্রতিরোধের মেয়াদকাল, প্রয়োগের স্থান, ও সংরক্ষনের তাপমাত্রা বিভিন্ন হতে পারে। গরুর উল্লেখ্যযোগ্য কয়েকটি রোগের Vaccine এর ব্যবহারবিধি তুলে ধরা হলো।
তড়কা (Anthrax)= ৪ মাস বয়স উর্ধ্ব সকল গরুকে চামড়ার নিচে ১ সিঃসিঃ করে বৎসরে ১ বার দিতে হবে। গর্ভবতী গাভী ৮ মাসের উপড়ে হলে দেওয়া যাবে না।
বাদলা (Black Quarter B/Q)= ৪ মাস বয়স থেকে শুরু করে ২.৫ বছরের মধ্যকার সকল গরুকে চামড়ার নিচে ৫ সিঃসিঃ করে ৬ মাস পরপর দিতে হবে।
গলাফুলা (Haemorrhagic Septicemia)= ৬ মাস বয়স উর্ধ্ব সকল গরুকে ২ সিঃসিঃ করে চামড়ার নিচে (Booster Dose/ Nex Within 15 Days) বছরে ১ বার দিতে হবে। গর্ভবতী গাভীকে দেয়া যাবে না।
ক্ষুরারোগ (FMD)= ৪ মাস বয়স উর্ধ্ব সকল গরুকে ৬ মাস পরপর (Booster Dose/ Nex Within 30 Days) ২ সিসি করে চামড়ার নিচে দিতে হবে। গর্ভাবস্থায় নিরাপদ।
জলতাঙ্ক (Rabies)= ৬ মাস বয়স উর্ধ্ব সকল গরুকে ৩ সিসি করে মাংশে বছরে ১ বার দিতে হবে। এই Vaccine (0 ডিগ্রী) তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করতে হয়। গর্ভাবস্থায় নিরাপদ।
নিয়মাবলীঃ-
সর্বপ্রথম Vaccine এর মেয়াদ উত্তীর্নের তারিখ ঠিক আছে কিনা তা নিশ্চিত হতে হবে।
ব্যবহারের পুর্বে ভায়াল ভালো ভাবে ঝাকিয়ে নিন যাতে সমভাবে মিশে যায়।
টিকাবীজ (Vaccine) দেওয়ার উত্তম সময় হলো ভোর বেলা।
কোন ভাবেই ভায়াল সুর্যের আলোতে বের করা যাবে না।
উৎপাদন থেকে ব্যবহার পর্যন্ত Vaccine ভায়াল সর্বদা Cool box অথবা ফ্লাস্কে সংরক্ষণ করতে হবে।
জলাতাঙ্ক ব্যতিত প্রায় সব Vaccine -ই চামড়ার নিচে দিতে হয়। খেয়াল রাখতে হবে কোন ভাবেই যেন চামড়ার নিচে দেওয়া Vaccine মাংশ পেশীতে না ঢুকে।
অসুস্থ গরুকে Vaccine দেয়া যাবে না।
Vaccine ভায়াল খোলার এক ঘন্টার মধ্যেই ব্যবহার সম্পন্ন করতে হবে।
ব্যবহার শেষে ভ্যাকসিনের ভায়াল ভেংগে ফেলা যাবে না। মাটির নিচে পুতে রাখতে হবে।
৪ মাস বয়সের নিচে কোন গরুর বাচ্চাকে Vaccine দেয়া যাবে না।
সতর্কতাঃ- টিকাবীজ Vaccine দেয়ার পর যদি কোন পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া দেখা যায় তাহলে দ্রুত এন্টিহিস্টামিন যেমন inj: ASTAVET 100kg/5ml হিসাবে মাংশে দিতে হবে।
কৃমিনাশক (Anthelmintics)
বাংলাদেশের আবহাওয়া কৃমির জন্য যথেষ্ট উপযোগী। যার জন্য গৃহপালিত পশু কমবেশি কোন না কোন কৃমি দ্বারা আক্রান্ত আছে। পরজীবি/বহিঃপরজীবি দ্বারা এ কৃমিরোগ হয়ে থাকে। নিয়মিত ও সঠিক পদ্ধতির মাধ্যমে কৃমিনাশক ঔষধ প্রয়োগ করে এই কৃমিরোগ দমন করা যায়।
সবচেয়ে ভালো হয় গরুর মল (গবর) ল্যাবঃ এ পরীক্ষা করে, কোন কৃমি দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে তা নিশ্চিত হয়ে চিকিৎসা দেয়া।
পাতাকৃমি
কলিজার পাতাকৃমি
রক্তের পাতাকৃমি
রুমেন কৃমি
যেকোন গ্রুপ দেয়া যাবে তবে ট্রাইক্লাবেন্ডাজল গ্রুপ উত্তম। যেমন Tab: Fasinex 900mg.
গোলকৃমি
কেঁচো বা বড় গোলকৃমি
পাকস্থলীর গোলকৃমি
অন্ত্রনালীর গোলকৃমি
ফুসফুসেরর গোলকৃমি
সাধারনত গোলকৃমির ক্ষেত্রে লেভামিসল গ্রুপের ঔষধ উত্তম। যেমনঃ Tab: Ralnex 600mg.
ফিতাকৃমি
যেকোন গ্রুপের ঔষধ ব্যবহার করলেই হয়।
উকুন, আঠালী, মাইট
inj: Ivermectin গ্রুপ উত্তম।
নিয়মাবলীঃ-
গরু কৃমিতে আক্রান্ত না থাকলেও নিশ্চিন্তে নিয়মিত কৃমিনাশক ঔষধ খাওয়ানো যাবে। এতে কোন ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
ভাল ফলাফল পাওয়ার জন্য গরুকে সকালে খালি পেটে কৃমিনাশক ঔষধ খাওয়াতে হবে।
দানাদার খাবারের পানির সাথে কৃমিনাশক ঔষধ খাওয়ালে কোন কাজ করবে না।
ট্যাবলেট গুড়া করে চিটাগুড় বা কলার পাতার সাথে মুড়িয়ে খালি পেটে খাওয়াতে হবে।
কৃমিনাশক ঔষধ খাওয়ানোর পর কমপক্ষে ১ ঘন্টা কোন ধরনের খাবার দেয়া যাবে না।
কৃমিনাশক ঔষধ নির্দিষ্ট মাত্রার চেয়ে বেশি পরিমান খাওয়ালেও কোন ক্ষতি হবে না।
মাত্রার চেয়ে কম খাওয়ালে কৃমিতো মরবেই না বরং আরও সক্রিয় হবে।
গাভীর বাচ্চা দেয়ার কমপক্ষে ৪৫ দিন পর কৃমিনাশক ব্যবহার করুন কিন্তু এর আগে না।
প্রজনন করানোর ৪৫ দিনের মধ্যেও কৃমিনাশক ব্যবহার উচিত নয়। তবে তীব্র রোগের ক্ষেতে প্রজনন করানোর ৩০ দিন পর কৃমিনাশক ব্যবহার করা হয়।
অত্যন্ত গরম আবহাওয়ায় কৃমিনাশক খাওয়ানো যাবে না। যদি খাওয়াতেই হয় তাহলে খাওয়ানোর সাথে সাথে গরুকে ১০/১৫ মিনিটের মত সময় ধরে গোসল করাতে হবে ও ফ্যানের নিচে রাখতে হবে।
৮ মাসের উপড় গর্ভবতী গাভীকে কৃমিনাশক খাওয়া উচিত নয় তবে তীব্র রোগের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যাবে
নিয়মিত ৩ মাস পর পর সকল গরুকে কৃমিনাশক ঔষধ খাওয়াতে হবে।
সদ্য ভুমিষ্ঠ গরুর বাচ্চাকে জন্মের ৫/৭ দিনের মধ্যে পাইপারজিন গ্রুপের কৃমিনাশক পাউডার খাওয়াতে হবে। এবং ৬ মাস বয়স পর্যন্ত প্রতি মাসে ১টি করে অ্যালবেন্ডাজল গ্রুপের ট্যাবলেট খাওয়াতে হবে।

প্রতিবার কৃমিনাশক ঔষধ খাওয়ানোর পর অবশ্যই মাত্রানুযায়ী লিভার টনিক খাওয়াতে হবে। কৃমিনাশক ঔষধ খাওয়ানোর পর যদি খাওয়ার রুচি কম হয় তাহলে রুচিবর্ধক পাউডার/ট্যাবলেট খাওয়ালে দ্রুত রুচি ফিরে আস
বে। প্রয়োজনে বিভিন্ন ভিটামিন জাতীয় ইনজেকশন ব্যবহার করুন।

গবাদিপশুর দূর্ঘটনা জনিত প্রাথমিক চিকিৎসা কি দিবেন জেনে নিন

কোন গবাদি পশু যদি কোন দূর্ঘটনায় পড়ে তবে প্রাথমিক কিছু চিকিৎসার কথা আজকে আলোচনা করা হলে।
পশু কোন সময় হঠাৎ পড়ে গেলে, অন্য পশুর সাথে লড়াই করলে অথবা চলন্ত বা স্থির বস্তুতে আঘাত প্রাপ্ত হলে, পুড়ে গেলে দূর্ঘটনা আবস্থার সৃষ্টি হয়। তবে সেই ক্ষেত্রে রক্তপাত হয়, তাতে অতি সত্বর রক্তপাত বন্ধ করতে হবে।
আক্রান্তের কারণ জ্ঞাত হবে
প্রানীকে আক্রান্তের স্থান থেকে তাড়াতাড়ি সড়ানো
রক্তপাত হলে তা দ্রুত বন্ধ করা
শারীরিক উত্তাপ কমে গেলে, তা বৃদ্ধির ব্যবস্থা করা
প্রানীকে স্বাভাবিক অবস্থায় রাখার ব্যবস্থা করা
ক্ষত হলে তা ব্যান্ডেজ বা গজ দ্বারা ঢেকে রাখা

প্রচুর মুক্ত বাতাসের ব্যবস্থা করা

বিশ্বের প্রথম উচ্চ প্রযুক্তির ভাসমান দুগ্ধ খামার

নেদারল্যান্ডে হচ্ছে বিশ্বের প্রথম উচ্চ প্রযুক্তির ভাসমান দুগ্ধ খামার

সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে নিচু হওয়ায় নেদারল্যান্ড দেশটির চারদিকে বাঁধ দেয়া আছে। ভূ-প্রকৃতি ও পরিবেশ গত কারণে ডাচরা সমুদ্রের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছে। তাই তারা বাঁধ ও সেতু নির্মাণে বেশ দক্ষ। শুধু নিজ দেশেই নয়, বিশ্বের নানান দেশেই ডাচদের তৈরী শহর রক্ষা বাঁধ ও সেতু রয়েছে। এরই ধারাবাহিতায় নিজ দেশে ভাসমান দুগ্ধ খামার নির্মাণ করছে ডাচরা।
পানিতে ভাসমান এই খামারটি সেই দেশের ক্রমবর্ধমান খাদ্য চাহিদা পূরণ করবে বলে মত বিশেষজ্ঞদের। এই ফার্মটির অবস্থান রটারডামে। বলা হচ্ছে, বিশেষ এই স্থাপনাটি ডাচদের আইকনিক স্থাপনার একটি হবে।
বেলাডন নামের প্রপার্টি কোম্পানি বন্দরনগরী রটরডামে এই বিশেষ খামারটি বানাবে। খামার পরিচালনায় উন্নত প্রযুক্তির সহায়তা নেয়া হবে বলেও জানা গেছে। গরু থেকে দুধ দোহন, দুধপরিবহনে বিশেষ পরিবহন ও বিশেষ এলইডি বাতির ব্যবহার হবে খামারে।
তিনতলা উচ্চতার খামারটি সমুদ্রতটে নোঙর করা থাকবে। খামারটি চালু হবে চলতি বছরের শেষ দিকে। দৈনিক ৮০০ লিটার দুধ উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে খামারটির।
এ ধরণের খামারের ধারণা প্রথম দেন ডাচ প্রকৌশলী পিটার ভ্যান ভিনডেগারডেন। তিনি জানান, হ্যারিকেন স্যান্ডির আঘাতে অনেক খামার তলিয়ে যাওয়ায় তাজা খাবার সংকট দেখা দেয়। তখন থেকেই প্রযুক্তি নির্ভর খামারের পরিকল্পনা করেন এই প্রকৌশলী।
খামারে ব্যবহৃত উপকরণ পুনর্ব্যবহার করা হবে। খাবার আসবে রটারডামের ৮০ ভাগ খাদ্য শিল্প থেকে। এছাড়াও খামারে উৎপাদিত ঘাসও দেয়া হবে গরুদের। স্থানীয় গম মিল থেকে কিছু উপজাত সংগ্রহ করা হবে। এখানকার শক্তির চাহিদা মেটানো হবে সৌর বিদ্যুৎ এর সাহায্যে।
বিশেষ সেলফ ব্যবহার করে ঘাস উৎপাদন করা হবে সেখানে। এই খামারে উৎপাদিত দুধ উৎপাদনের পর বিশেষ প্রক্রিয়ায় সেখানে পাস্তুরিত করা হবে। এখানে দইও উৎপাদিত হবে। গোবর ব্যবহার হবে সার হিসেবে।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার মতে, এটি হবে আইকনিক স্থাপনা ও মাইলফলক যা ভবিষ্যতে এ ধরনের খামার করতে উদ্বুদ্ধ করবে। পানি, সার ও কীটনাশক কম লাগায় আদর্শ হয়ে উঠতে পারে এই খামারটি। তবে ক্রমবর্ধমান খাদ্য চাহিদায় এ ধরনের খামার কতটা যোগান দিতে পারে সেটা এখন দেখার বিষয়।

শীতে গবাদি পশুর যত্ন নিয়মাবলী

শীতে গবাদি পশুর যত্ন নিয়মাবলী
বাংলাদেশ নাতিশীতোষ্ণ দেশ। এ দেশে শীতকাল দীর্ঘস্থায়ী হয় না। তবে কিছু কিছু জেলায় শীত তীব্র আকার ধারণ করে বিশেষত উত্তরাঞ্চলে। উত্তরাঞ্চলে কোনো কোনো বছর শীতকালে তাপমাত্রা অনেক কমে যায়, প্রচণ্ড ঠাণ্ডা বিরাজ করে।
শীতকালে মানুষের পাশাপাশি গবাদি পশুরও নানা রোগ বালাই দেখা দেয়। ফলে গবাদি পশুর দেহের ওজন কমে যায় এবং দুধ উৎপাদন কমে যায়।
শীতকালে গবাদি পশুর বিশেষ যত্নের প্রয়োজন হয়। মোটা কাপড় দিয়ে পশুর শরীর ঢেকে দিতে হবে। মোটা কাপড় না থাকলে চটের বস্তার ব্যবস্থা করতে হবে। প্রতিদিন সেগুলো ভালোভাবে শুকিয়ে নিতে হবে যেন রাতের প্রস্রাব দিয়ে সেগুলো ভিজে না থাকে। অন্যথায় সেগুলো থেকে পশুর ঠাণ্ডা লাগবে।
এ সময় গবাদিপশুকে সকল খাবার বাড়িতে অথবা খামারের গোয়াল ঘরে অথবা শেডে দিতে হবে। গবাদি পশুকে বাইরের ঠাণ্ডা থেকে দূরে রাখতে হবে।
পশুকে গরম খাবার খাওয়াতে হবে, যেমন গরম পানি, ভাতের গরম ফেনা; ফলে পশুর খাদ্য চাহিদা বাড়বে এবং ওজন স্বাভাবিক থাকবে। চিটাগুড় পানির সাথে মিশিয়ে গরম করেও খাওয়ানো যেতে পারে।
খামারের অথবা গোয়াল ঘরের মেঝেতে খড় বিছিয়ে দিতে হবে যেন মেঝেতে শোবার সময় পশুর শরীরে ঠাণ্ডা লেগে না যায়। প্রতিদিন খড়গুলো রোদে শুকাতে হবে।
খামার অথবা গোয়াল ঘরের চারদিক যদি দেওয়াল না থাকে তাহলে নেট অথবা মোটা কাপড় বা চট দিয়ে চারদিক ঢেকে দিতে হবে যেন ঠাণ্ডা বাতাস ভেতরে প্রবেশ করতে না পারে। শীত তীব্র হলে ঘরে কৃত্রিম তাপের ব্যবস্থা করতে হবে। বৈদ্যুতিক বাল্ব দিয়ে অথবা ঘরের এক কোনায় গরম কয়লা রেখে ঘরের তাপমাত্রা বাড়াতে হবে। শীতকালে গবাদিপশুর ঘরের তাপমাত্রা ৫৫-৬০ ডিগ্রী ফারেনহাইট রাখতে হবে। গবাদিপশুর ঠাণ্ডা কম লাগবে।
শীতকালে গবাদি পশুর বিভিন্ন রোগ দেখা দেয় এর মধ্যে আঁটালি, গলা ফোলা, ক্ষুরারোগ, বাদলা, ক্যাসিওলিয়াসি রোগ তড়কা রোগ বেশি দেখা দেয়; এজন্য প্রয়োজনীয় ঔষধপত্র সাথে রাখতে হবে। শীতকালে জ্বর, নাক দিয়ে তরল পড়া কিংবা ভাইরাস জনিত রোগের প্রকোপ বেড়ে যায়। রোগের উপসর্গ দেখা মাত্র পশুকে আলাদা করে রাখতে হবে এবং স্থানীয় পশু চিকিৎসক অথবা পশু হাসপাতালে যোগাযোগ করতে হবে।
পশুকে কিছুতেই বাসি খাবার দেওয়া যাবে না। বাসি এবং জমিয়ে রাখা খাবারে পরজীবি বা ছত্রাক থাকে। এ জন্য সব সময় শুষ্ক পরিষ্কার জায়গায় খাবার সংরক্ষণ করতে হবে। সবুজ খাবার কাঁচা খেতে দেওয়ার আগে অবশ্যই পরিষ্কার করে দিতে হবে।
পশুর প্রতি যথেষ্ট সময় এবং সঠিক ব্যবস্থাপনা অনুসরণ করলে শীতকালে পশুকে সুস্থ রাখা সম্ভব। রোগ-বালাইয়ের আক্রমণ হলে হাতুড়ে ডাক্তারের কাছে না গিয়ে পশু চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

লেখক : ফাহাদ এম আনোয়ার হোসেন

গবাদিপশুর অ্যানথ্রাক্স রোগ, লক্ষণ ও প্রতিকার জেনে নিন ৩)

প্রতিরোধে যা করণীয় : খুবই ভয়ানক আর ছোঁয়াচে রোগ হওয়ায় এ রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই এ রোগ প্রতিরোধে বিশেষভাবে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। এ জন্য নিচের নির্দেশনাগুলো মেনে চলা জরুরি।
১. অ্যানথ্রাক্স রোগে মৃত পশুর ময়নাতদন্ত করা একেবারেই অনুচিত। রোগের লক্ষণ এবং রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমেই এ রোগ সম্বìেধ শতভাগ নিশ্চিত হওয়া সম্ভব। ময়নাতদন্তে কাটাছেঁড়া করার জন্য যে ধরনের সতর্কতামূলক ব্যবস্খা গ্রহণ করা প্রয়োজন দেশের কোনো ল্যাবরেটরিতেই সে ধরনের ব্যবস্খা নেই। কাটাছেঁড়া করতে গিয়ে পশুর রক্ত, বর্জ্য চার দিকে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। আশঙ্কা রয়েছে যারা কাটাছেঁড়া করবেন তাদেরই এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার।
২. পশুর মৃতদেহ ভাগাড়, নদী, জলাশয়, জঙ্গল বা পরিত্যক্ত জায়গায় ফেলা যাবে না। এতে শেয়াল, কুকুর, শকুনসহ মৃতদেহ ভক্ষণকারী অন্যান্য প্রাণী সেগুলো খাবে এবং রোগজীবাণু চার দিকে ছড়িয়ে যাবে। সেই সাথে বাতাস, পানির মাধ্যমেও গোটা এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
৩. মৃতদেহ লোকালয় থেকে দূরে জনমানবহীন নির্জন জায়গায় আট-দশ ফুট গর্ত খুঁড়ে মাটি চাপা দেয়ার ব্যবস্খা করতে হবে। প্রথমে গর্তে কিছু চুন ছড়িয়ে দিতে হবে। মৃতদেহ রেখে আবার কিছু চুন প্রয়োগ করে মাটি চাপা দিতে হবে। কুকুর, শেয়াল যেন মাটি খুঁড়ে মৃতদেহ বের করে নিয়ে যেতে না পারে সে জন্য গর্তের ওপর পাথর দিয়ে রাখা ভালো। গর্তের চার পাশে কাঁটা দিয়ে রাখলে কুকুর, শেয়াল কাছে ঘেঁষতে পারবে না।
৪. বাড়ি থেকে মৃতদেহ বহন করে নেয়ার সময় বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্খা গ্রহণ করা প্রয়োজন। অ্যানথ্রাক্সে মৃত পশুর নাক, মুখ, কান, মলদ্বার দিয়ে রক্ত বের হয়ে থাকে। এ রক্ত আবার জমাট বাঁধা থাকে না। ফলে আশপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে যেতে পারে। তাতে সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই মৃত পশুর নাক, মুখ, কান, মলদ্বারে তুলা বা কাপড় গুঁজে ভ্যান বা বহনকারী বাহনে উঠাতে হবে। ভ্যান বা অন্য কোনো বাহনে পলিথিন বা অন্য কিছু এমনভাবে দিয়ে নিতে হবে যাতে দুর্ঘটনাবশত লালা বা রক্ত পড়লেও যেন ভ্যান বা বাহনে না লাগে। যারা মৃতদেহ বহন করবে তাদের অবশ্যই দস্তানাসহ বিশেষ ধরনের পোশাক পরা প্রয়োজন।
৫. মৃত পশুর চামড়া ছাড়ানো যাবে না।
৬. আক্রান্ত গরু জবাই করা যাবে না। গোশত না খাওয়াই উত্তম।
৭. আক্রান্ত বা মৃত গরুর গোয়ালঘর ব্লিচিং পাউডার, কাপড় কাচার সোডা বা পটাসিয়াম পারম্যাঙ্গানেট দিয়ে যত্নের সাথে ধুয়ে পরিষ্কার করতে হবে। আক্রান্ত গরু সুস্খ গরু থেকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে রাখতে হবে। কারণ আক্রান্ত গরু থেকে জীবাণু সুস্খ গরুতে ছড়াতে পারে। এসব নির্দেশনা সঠিকভাবে মেনে চললে রোগের বিস্তার রোধ করা সম্ভব হবে।
আশার কথা : আশার কথা হচ্ছে Bacillus anthracis জীবাণু ধ্বংসের খুব কার্যকরী একটি প্রোটিন আলফা ডিফেনসিন (Alpha defensin) শনাক্ত করতে পেরেছেন জার্মানির ম্যাক্স প্লাংক ইনস্টিটিউটের গবেষকরা। নিউট্রিফিল যেসব প্রোটিন উৎপন্ন করে Alpha defensin তার মধ্যে একটি। এ নিয়ে গবেষণা চলছে, অদূর ভবিষ্যতে হয়তো অ্যানথ্রাক্সের কার্যকর ওষুধ বাজারে আসবে। গুটিবসন্তের মতো ঘাতক ব্যাধি অ্যানথ্রাক্সও একদিন হারিয়ে যাবে পৃথিবী থেকে, সে দিন হয়তো খুব কাছেই।
প্রতিকার:
ক. গবাদিপশুকে নিয়মিত বছরে একবার অ্যানথ্রাক্স রোগের টিকা দিতে হবে;
খ. পশুর ঘর সবসময় পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে;
গ. মৃত পশুর দেহ, গোবর, লালা, প্রস্রাব, রক্ত ইত্যাদিসহ গভীর গর্তে পুঁতে অথবা পুড়িয়ে ফেলতে হবে;
ঘ. কোনো পশু আক্রান্ত হলে তাকে পৃথক করে চিকিৎসা দিতে হবে;
ঙ. মৃত পশুর চামড়া ছাড়ানো যাবে না;
চ. নদী-নালার পানি ও নিচু এলাকার ঘাস খাওয়ানো যাবে না।
ছ. অ্যানথ্রাক্স রোগে আক্রান্ত পশুর মাংস কোনো অবস্থাতেই খাওয়া যাবে না।
অ্যানথ্রাক্স রোগে মানুষ আক্রান্ত হবার লক্ষণসমূহ : অ্যানথ্রাক্স রোগে আক্রান্ত গবাদিপশু যারা জবাই করেন, মাংস কাটেন, মাংস ধোয়ামোছা করেন, চামড়া ছাড়ান এবং খান প্রত্যেকেই এই রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। অ্যানথ্র্যাক্স একটি ব্যাকটেরিয়া (ব্যাসিলাস অ্যানথ্র্যাসিস) জনিত সংক্রামক রোগ। রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিকে জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসা দিতে হয়, না হলে প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।
কিভাবে ছড়ায় : আক্রান্ত পশুর (গরু, ছাগল, ভেড়া, মহিষ) লোম, চামড়া, মাংস রোগ ছড়ানোর উৎস হিসেবে গণ্য করা। এ জন্য রোগে আক্রান্ত পশুর খামারি, লোম উত্তোলনকারী এবং কসাইরা প্রথমে আক্রান্ত হয়ে থাকে। কখনোই রোগাক্রান্ত ব্যক্তির মাধ্যমে এ রোগ ছড়ায় না। তবে আক্রান্ত পশুর মাংস ও রক্তের সংস্পর্শে এ রোগ ছড়াতে পারে। তাই রোগাক্রান্ত পশু জবাই বা খাদ্য হিসেবে গ্রহণের অনুপযোগী।
লক্ষণ কি : সাধারণত জীবাণু শরীরে প্রবেশের দুই থেকে পাঁচ দিনের মধ্যেই লক্ষণ প্রকাশ পেয়ে থাকে। সর্বপ্রথম ত্বকেই এ রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায়, আক্রান্ত স্থান চুলকায় এবং লাল বর্ণের হয়ে থাকে, যা প্রাথমিকভাবে পোকার কামড় মনে হতে পারে। এটি শুকিয়ে লালচে কালো বর্ণের আকার ধারণ করে এবং খসে পড়ে। ক্ষতটির কেন্দ্র শুকনা এবং কালো, তার চারদিকে উঁচু এবং লাল বর্ণের হয়ে থাকে।
লক্ষণসমূহ:
ক. আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে জ্বর উঠবে;
খ. চামড়ায় প্রথমে লালচে দাগ হবে এবং আক্রান্ত স্থান চুলকাবে;
গ. পরবর্তীতে আক্রান্ত স্থানে প্রায় দেড় দুই ইঞ্চি পরিমাণে ফোসকা উঠবে, ফোসকার মাঝখানে পচনের মত কালচে হবে;
ঘ. ফোসকার স্থানে পরে ব্যথামুক্ত ঘা হবে। আক্রান্ত ব্যক্তি সঠিকভাবে চিকিৎসা না নিলে মারা যেতে পারে।
জটিলতা : ত্বকে লক্ষণ প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা গ্রহণ করলে এটি সহজে নিরাময়যোগ্য রোগ কিন্তু পরবর্তীতে শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়লে এ রোগে মৃত্যুর ঝুঁকি রয়েছে। ব্যাকটেরিয়াজনিত প্রদাহের কারণে, উঁচু মাত্রার জ্বর, ফুসফুসের সংক্রমণের কারণে তীব্র শ্বাসকষ্ট এবং পরিপাকতন্ত্রের জটিলতার কারণে মৃত্যু হয়ে থাকে।
রোগের ধরন : অ্যানথ্রাক্স জীবাণু মানুষের দেহের বিভিন্ন অঙ্গ আক্রান্ত করতে পারে এবং আক্রান্ত অঙ্গ অনুযায়ী রোগের ধরনও বিভিন্ন রকম হয়। যেমন :
১। ত্বকের (cuteneous) অ্যানথ্রাক্স : অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত পশু অথবা এনথ্রাক্স স্পোর দ্বারা দূষিত পশুর পশম, চুল বা চামড়ার সংস্পর্শে এলে অ্যানথ্রাক্স স্পোর মানুষের ত্বকের অতিসূক্ষ্ম ক্ষত দিয়েও প্রবেশ করতে পারে। এ অবস্থায় সাধারণত ১ থেকে ৭ দিনের মধ্যে ত্বকের ক্ষত তৈরি হয়। ক্ষত দুই হাতে মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, তবে ঘাড় এবং মাথাও আক্রান্ত হতে পারে। ত্বকে ধীরে ধীরে ঘা তৈরি হয় যা ২-৩ সেমি আয়তনের হয়ে থাকে এবং ঘা এর চারদিকের ত্বক একটু উঁচু হয়ে থাকে। ক্ষতে চুলকানি থাকে তবে ব্যথা থাকে না।
শ্বসনতন্ত্রির (inhalational) অ্যানথ্রাক্স :অ্যানথ্রাক্স জীবাণুর স্পোর যদি শ্বাসের মাধ্যমে ফুসফুসে প্রবেশ করলে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়। শুরুর দিকে হালকা জ্বর, খুশখুশে কাশি এবং বুকে অল্প ব্যথা হয়। পরবর্তীতে তীব্র জ্বর, শ্বাসকষ্ট, শরীর নীল হয়ে যাওয়া, শরীর বেশি ঘেমে যাওয়া, কাশির সঙ্গে রক্ত বের হওয়া, বুকে ব্যথা ইত্যাদি লক্ষণ দেখা দেয়।
মুখবিবরীয় (oropharyngeal) অ্যানথ্রাক্স :অ্যানথ্রাক্স স্পোর খেলে এ অবস্থা দেখা দেয়। গলাব্যথা, খাবার গিলতে অসুবিধা হওয়া এর লক্ষণ। এক্ষেত্রে মুখের তালু বা মুখবিবরে (pharynx) ক্ষত দেখা দেয়।
পরিপাকতন্ত্রের (Intestinal) অ্যানথ্রাক্স : এটাও অ্যানথ্রাক্স স্পোর খেলে দেখা দেয়। বমি অথবা বমিবমি ভাব, অস্বস্তি, পেটব্যথা, রক্তবমি, বারবার রক্তযুক্ত পায়খানা হওয়ার সঙ্গে জ্বর হয়।
রোগের পরিণতি : বেশির ভাগ এনথ্রাক্স ত্বকের এনথ্রাক্স, যা চিকিৎসা করলে, এমনকি চিকিৎসা না করলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ভালো হয়ে যায়। অন্যান্য ধরনের এনথ্রাক্সের পরিণতি বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই খারাপ। এর মধ্যে সেপটিসেমিক এনথ্রাক্স এবং অ্যানথ্রাক্স মেনিনজাইটিস এ মৃত্যুহার খুবই বেশি। শ্বসনতন্ত্রের অ্যানথ্রাক্স চিকিৎসা করলেও মৃত্যুহার প্রায় ৪৫%। পরিপাকতন্ত্রের অ্যানথ্রাক্স নির্ণয় করা খুব কঠিন এবং এতে মৃত্যহার ২০-৬০%।
রোগ নির্ণয় : ত্বকের অ্যানথ্রাক্স রোগীর গবাদিপশুর সংস্পর্শে আসার ইতিহাস এবং ক্ষতের ধরন দেখেই বোঝা যায়। নিশ্চিত হওয়ার জন্য ক্ষত থেকে রস নিয়ে নির্দিষ্ট উপায়ে অণুবীক্ষণ যন্ত্রে পরীক্ষা করলে জীবাণু দেখা যায়। শ্বাসতন্ত্রের রোগ সন্দেহ করলে বুকের এক্স-রে, সিটি স্ক্যান করা হয়। সেপটিসেমিক অ্যানথ্রাক্স নির্ণয় করার জন্য ব্লাড কালচার করা হয়। মেইনজাইটিস সন্দেহ হলে লাম্বার পাংকচার করে সেরিব্রোস্পাইনাল রস পরীক্ষা করা হয়। এছাড়া ELISA নামক পরীক্ষাও এ রোগ নির্ণয়ে ব্যবহৃত হয়।
চিকিৎসা : ত্বকের সংক্রমণের ক্ষেত্রে রোগীকে বহিঃবিভাগেই চিকিৎসা দেওয়া যায়। অন্যান্য ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের তত্ত্বাবধানে হাসপাতালে ভর্তির মাধ্যমে চিকিৎসা দিতে হবে। বিভিন্ন রকমের এন্টিবায়োটিক ব্যবহার করা যেতে পারে, তবে অ্যানথ্রাক্স রোগের চিকিৎসায় পেনিসিলিনকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়। কুইনোলন গ্রুপের এন্টিবায়োটিক যেমন : সিপ্রোফ্লক্সাসিন, লেভোফ্লক্সাসিন, গ্যাটিফ্লক্সাসিন, ডক্সিসাইক্লিন, এমক্সিসিলিন, এম্পিসিলিন, ক্লোরামফেনিকল ইত্যাদি চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।
প্রতিরোধ :
১. রোগাক্রান্ত পশুকে প্রথমেই আলাদা জায়গায় রাখতে হবে।
২. রোগাক্রান্ত পশুকে জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসা প্রদান করতে হবে।
৩. মৃত পশুকে মাটিতে পুঁতে ফেলতে হবে।
৪. রোগাক্রান্ত পশুকে জবাই করে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করা যাবে না।
৫. রোগাক্রান্ত ব্যক্তিকে যতদ্রুত সম্ভব চিকিৎসা প্রদান করতে হবে।

গবাদিপশুর অ্যানথ্রাক্স রোগ, লক্ষণ ও প্রতিকার জেনে নিন ২)

যেসব প্রাণীর এ রোগ হয়: মূলত গরু এ রোগে বেশি আক্রান্ত হয়। তবে ছাগল, ভেড়া, ঘোড়া, মহিষ, জেব্রা, জিরাফ, হরিণ, শূকর, হাতি এবং বানরও এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে। প্রাণী থেকে মানুষে এ রোগ ছড়ায় বলে একে জ্যুনোটিক ডিজিজও (zoonotic disease) বলে। তাই ভয়ের কারণ একটু বেশি।
কিভাবে ছড়ায় : মৃত বা আক্রান্ত পশুর লালা বা রক্তের মাধ্যমে এ রোগ ছড়ায়। তা ছাড়া চুল, উল বা অন্যান্য বর্জের মাধ্যমেও ছড়াতে পারে। মৃত পশু পচে গলে মাটিতে মিশে গেলেও হাড় যদি থাকে তবে তা থেকেও ছড়াতে পারে। এ রোগের জীবাণু প্রচণ্ড প্রতিকূল পরিবেশেও বছরের পর বছর বেঁচে থাকতে পারে। কখনো এক দশকও। কোথাও একবার এ রোগ দেখা দিলে তা পরবর্তী সময়ে আবারো দেখা দিতে পারে। ট্যানারি বর্জ্যরে সঠিক ও সুষ্ঠু নিষ্কাশন এ জন্যই খুব গুরুত্বপূর্ণ। অ্যানথ্রাক্সে মৃত গরুর চামড়া ট্যানারিতে গেলে তা থেকে জীবাণু চারদিকে ছড়িয়ে পড়তে পারে। ভয়াবহ অবস্খার সৃষ্টি হওয়া খুব অস্বাভাবিক নয়।
রোগটি কেন এত মারাত্মক : এ রোগের জন্য দায়ী ব্যাসিলাস অ্যাথ্রাসিস (Bacillus anthracis) নামের এক ধরনের ব্যাক্টেরিয়া। এই ব্যাক্টেরিয়া বিশেষ ধরনের কিছু টক্সিন বা বিষাণু তৈরি করতে পারে। এ টক্সিন প্রাণীদেহে প্রবেশের দুই থেকে চার ঘন্টার মধ্যে প্রাণীদেহের নিউট্রোফিলকে দুর্বল করে ফেলে। নিউট্রোফিল হচ্ছে এক ধরনের শ্বেতকণিকা যা বাইরের জীবাণুর আক্রমণ থেকে দেহকে রক্ষা করে। টক্সিন নিউট্রোফিলের ফিলামেন্ট তৈরিতে বাধা দেয়, ফলে নিউট্রোফিল চলৎ-শক্তি হারিয়ে ফেলে। সংক্রমণের স্খানে যেতে পারে না, ব্যাক্টেরিয়াকে ধ্বংসও করতে পারে না। নিউট্রোফিল নিষ্ক্রিয় হওয়ায় ব্যাক্টেরিয়া বাধাহীনভাবে দ্রুত দেহে ছড়িয়ে পড়ে এবং রোগ তৈরি করে মৃত্যু ঘটায়।
রোগের লক্ষণ : লক্ষণ প্রকাশ পাওয়ার আগেই সাধারণত গরু মারা যায়। তবে লক্ষণ হিসেবে কখনো কখনো গরুর খিঁচুনি, কাঁপুনি দেখা দেয়। শরীরের তাপমাত্রা খুব বেড়ে যায়। তাপমাত্রা প্রায় ১০৫-১০৭ ডিগ্রি পর্যন্ত হতে পারে। গরু ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে, শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে। খাবার গ্রহণ থেকে বিরত থাকে। চব্বিশ ঘন্টার মধ্যে গরু মারা যায়। মারা গেলে নাক, মুখ, কান, মলদ্বার দিয়ে কালচে লাল রঙের রক্ত বের হয়। এ রোগের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হচ্ছে গরু মারা যাওয়ার পরও রক্ত কখনো জমাট বাঁধে না।
লক্ষণসমূহ:
ক. অত্যাধিক জ্বর হয় (১০৩-১০৭ ফাঃ);
খ. শ্বাসকষ্ট এবং দাঁত কটকট করে;
গ. শরীরের লোম খাড়া হয়ে উঠে;
ঘ. আক্রান্ত পশু মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে থাকে;
ঙ. পশুকে কিছুটা উত্তেজিত দেখায়;
চ. পশু নিস্তেজ হয়ে শুয়ে পড়ে;
ছ. খিঁচুনি হয় ও অবশেষে পশু মারা যায়;
জ. মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্তে বা পরে পশুর নাক, মুখ, মলদ্বার ইত্যাদি দিয়ে কালো রক্ত নির্গত হয়;
ঝ. অনেক সময় লক্ষণসমূহ প্রকাশের আগেই পশুর মৃত্যু ঘটে।
রোগ নির্ণয় : রোগের লক্ষণ দেখে সহজেই রোগ নির্ণয় করা যায়। তাছাড়া রক্ত পরীক্ষা করলে ছোট দণ্ডের মতো ব্যাক্টেরিয়া দেখতে পাওয়া যায়। এ রোগে মৃত গরুর ময়নাতদন্ত করা হয় না। তবে ভুলক্রমে ময়নাতদন্ত করে ফেললে দেখা যায় প্লীহা বড় হয়ে গেছে।
চিকিৎসা : সাধারণত চিকিৎসা করার কোনো সুযোগ পাওয়া যায় না, তার আগেই আক্রান্ত গরু মারা যায়। যদি কখনো আক্রান্ত গরু পাওয়া যায় তবে উচ্চমাত্রার পেনিসিলিন, স্ট্রেপটোমাইসিন, টেট্রাসাইক্লিন জাতীয় অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ করা যেতে পারে। ভ্যাকসিন দেয়াই এ রোগ প্রতিরোধের একমাত্র উপায়। লাইভ এবং কিলড উভয় ধরনের ভ্যাকসিনই পাওয়া যায়। চামড়ার নিচে এ ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হয়। ভ্যাকসিন প্রয়োগের ১০-১৫ দিনের মধ্যেই গরুর দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়। আক্রান্ত গরুতে আগে ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হয়ে থাকলে নতুন করে ভ্যাকসিন দেয়ার প্রয়োজন হয় না।

গবাদিপশুর অ্যানথ্রাক্স রোগ, লক্ষণ ও প্রতিকার জেনে নিন ১)

গবাদিপশুর অ্যানথ্রাক্স রোগ, লক্ষণ ও প্রতিকার জেনে নিন

অ্যানথ্রাক্স বা তড়কা রোগ গবাদিপশুর একটি মারাত্মক সংক্রামক রোগ। গবাদিপশু থেকে এ রোগে মানুষেও ছড়ায়। এ রোগের জীবাণু দ্বারা সংক্রামিত খাদ্য খেয়ে বিশেষ করে বর্ষাকালে নদী-নালার পানি ও জলাবদ্ধ জায়গার ঘাস খেয়ে গবাদিপশু অ্যানথ্রাক্স রোগে আক্রান্ত হয়। রাতে গোয়াল ঘরে সুস্খ গরু রেখে এসে সকালে গিয়ে যদি দেখা যায় গরু মরে চিৎ হয়ে পড়ে আছে তাহলে যেসব রোগে মারা যেতে পারে বলে মনে করা হয় অ্যানথ্রাক্স বা তড়কা রোগ তার মধ্যে অন্যতম। রোগের লক্ষণ প্রকাশ পাওয়ার চব্বিশ ঘন্টার মধ্যে গরু মারা যায়। অনেক সময় লক্ষণ প্রকাশ পাওয়ার পরপরই গরু মারা যেতে পারে। চিকিৎসার কোনো সুযোগই পাওয়া যায় না। এমনই ঘাতক ব্যাধি অ্যানথ্রাক্স বা তড়কা রোগ।
অ্যানথ্রাক্স বা তড়কা রোগের ইতিহাস অনেক পুরনো। খ্রিষ্টপূর্ব ১৪৯১ সালেও মিসরে এ রোগের প্রাদুর্ভাব ছিল বলে জানা যায়। শুধু মিসর নয়, গ্রিস, রোম এমনকি ভারতবর্ষেও এ রোগের প্রাদুর্ভাব ছিল। সপ্তদশ শতাব্দীর শুরুতে ইউরোপে এ রোগ মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়েছিল। ঊনবিংশ শতাব্দীর শুরুতে আমেরিকায় ভয়াবহ আকারে ছড়িয়ে পড়ার রেকর্ড রয়েছে। এমনকি মাত্র তিন দশক আগে ১৯৭৮-৮০ সালে জিম্বাবুয়েতে ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়েছিল। এতে শুধু পশু নয়, প্রায় দশ হাজার মানুষ আক্রান্ত হয়, মারা যায় প্রায় ১৫১ জন।

Sunday, January 20, 2019

গাভীর খামার ব্যবস্থাপনা

বাংলাদেশে প্রতিবছর দুধের চাহিদা ১২·৯২ মিলিয়ন মেট্রিক টনের বেশি, কিন্তু উৎপাদন হচ্ছে প্রতিবছর প্রায় ২·৭৮ মিলিয়ন মেট্রিক টন, ঘাটতি প্রতিবছর ১০ মিলিয়ন মেট্রিক টনেরও বেশি। চাহিদার আলোকে আমাদের দেশে ছোট-বড় প্রায় ৪৭,৭১০টি ডেইরি খামার গড়ে উঠেছে (২০১০-২০১১ এর তথ্যানুযায়ী)।
বর্তমানে শংকর জাতের গাভী পালনের মাধ্যমে দুগ্ধ খামার স্থাপন একটি লাভজনক ব্যবসা। ৮/১০ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করলে প্রতি মাসেই ১ লক্ষ টাকা আয় করা যায় অনায়াসেই। তবে তিনটি জরুরী বিষয় আয়ত্বে আনতে হবে শুরুতেই। এবং এই তিনটির কোন একটি অবশ্যই বাদ থাকতে পারবে না।
১. যুব উন্নয়ন বা যে কোন সরকারী-বেসসরকারী প্রতিষ্ঠান থেকে ৩ মাসের প্রশিক্ষণ গ্রহন করা। এক বার প্রশিক্ষণ গ্রহন করার পর পরিপূর্ণ আয়ত্তে না আসলে পুনরায় প্রশিক্ষণ গ্রহন করা। ২ বার পরিপূর্ণ আয়ত্তে না আসলে ৩য় বার প্রশিক্ষণ গ্রহন করা।
২. যে কোন একটি খামারে কমপক্ষে ৬/৮ মাস জড়িত থেকে বাস্তব অভিজ্ঞতা নেয়া। এক বছর জড়িত থাকতে পারলে আরো ভাল।
৩. অন্য কারো বুদ্ধি বা জ্ঞানের উপর ভরসা না করে প্রথমিক পর্যায়ে মূল বিনিয়োগের পাঁচ ভাগের এক ভাগ বিনিয়োগ করা। এক বছর পর বাকী মূলধন বিনিয়োগ করা। অর্থ্যাৎ কেউ ২০ লক্ষ টাকা মূলধন বাজেট করলে প্রথমে চার লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করতে হবে। এক বছর পর বাকী টাকা বিনিয়োগ করাতে হবে।
(এই তিনটি বিষয় খেয়াল রাখতে পারলে একজন খামারী সব খরচ বাদ দিয়েও প্রতি মাসে তার মোট বিনিয়োগের ১০/১২% লাভ করতে পারবেন। এই তিনটি বিষয় আমার বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে শেয়ার করা)
অর্থ্যাৎ একজন খামারীর গাভী পালনে উন্নত ব্যবস্থাপনা, সঠিক প্রজনন পদ্ধতি, সুষম খাদ্য তৈরী, রোগদমন ও প্রাথমিক চিকিৎসা ইত্যাদি ইত্যাদি বিষয়ের উপর আধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কে পরিপূর্ণ জ্ঞান থাকা প্রয়োজন। তবে সব কিছুর পূর্বে প্রয়োজন গাভীর খামার ব্যবস্থাপনার উপর পরিপূর্ণ প্রশিক্ষণ, সেই সাথে মাঝারি/বড় আকারের একটি খামারে কমপক্ষে ৬/৮ মাস জড়িত থাকার বাস্তব অভিজ্ঞতা।

ভালজাতের গাভীর বৈশিষ্ট্য
মাথাঃ হালকা ও ছোট আকার, কপাল প্রশস্ত, উজ্জ্বল চোখ, খাদ্যের প্রতি আগ্রহ।
দৈহিক বৈশিষ্ট্যঃ দেহের সামনে দিক হালকা, পিছনের দিক ভারী ও সুসংগঠিত, দৈহিক আকার আকর্ষণীয়, শরীরের গঠন ঢিলা।
পাজরঃ পাজরের হাড় স্পষ্ট, হাড়ের গঠন সামঞ্জস্যপুর্ণ।
চামড়াঃ চামড়া পাতলা, চামড়ার নীচে অহেতুক চর্বি জমা থাকবে না, চামড়ার রঙ উজ্জ্বল, লোম মসৃণ ও চকচকে হবে।
ওলানঃ ওলান বড় সুগঠিত ও দেহের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, বাটগুলো একই আকারের হবে। চারবাট সমান দূরত্বে ও সমান্তরাল হবে। দুগ্ধশিরাঃ দুগ্ধশিরা মোটা ও স্পষ্ট, তলপেটে নাভীর পাশ দিয়ে দুগ্ধশিরা আঁকাবাঁকাভাবে বিস্তৃত থাকবে।
খামার ব্যবস্থাপনাঃ
খামার ব্যবস্থাপনা এক প্রকার কৌশল যার মাধ্যমে খামারের সম্পদ, সুযোগ ও সময়ের সমন্বয় ঘটানো যায়। সুষ্ঠ ব্যবস্থাপনার সুফল হল-
১·সম্পদের মিতব্যয়িত
২·স্বল্প সময়ে ফললাভ
৩·স্বল্প সময়ে ও ব্যয়ে অধিক উৎপাদন
৪·শক্তি ও শ্রমের অপচয় রোধ
৫·উৎপাদনে গুণগতমান ও উৎকর্ষতা লাভ।

সাধারণ ব্যবস্থাপনাঃ
গাভী তার গুণগতমান উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়ে থাকে। কিন্তু গাভীর বংশানুক্রমিক গুণগতমান যতই ভাল হোক এর ব্যবস্থাপনা সমন্ধে বিশেষ যত্নবান হওয়া প্রয়োজন। দৈনন্দিন পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা রক্ষা, বিজ্ঞান সম্মত বাসস্থান, সুষম খাদ্য সরবরাহ, সঠিক প্রজনন, রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ইত্যাদি উন্নত গাভী পালনের মৌলিক বিষয়।
বাসস্থানঃ
পারিবারিক পর্যায়ে বা খামার পর্যায়ে গাভী পালন করতে হলে গাভীর জন্য ভাল বাসস্থান প্রয়োজন। গাভীকে বিভিন্ন প্রতিকূল অবস্থা যেমন- ঝড়, বৃষ্টি, অতিরিক্ত ঠাণ্ডা অথবা অতিরিক্ত গরম এবং অন্যান্য নৈসর্গিক দৈব দুর্বিপাক, পোকামাকড়, চোর, বন্য-জীবজন্তু হতে রক্ষা করার জন্য যথোপযুক্ত পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন বাসস্থান বা গোয়ালঘর প্রয়োজন। আমাদের আবহাওয়ার আলোকে ঘরে প্রচুর আলো বাতাস চলাচলের জন্য ঘরটি উত্তর-দক্ষিণমুখী হওয়া বাঞ্চনীয়। কোন অবস্থাতেই যেন ঘরে স্যাঁতস্যাঁতে অবস্থা যেন না থাকে। এতে ঘরের মেঝেটি ইট বিছানো থাকলে ভাল হয়। ঘরের দুর্গন্ধ ও মশামাছি দমনের জন্য মাঝে মাঝে জীবাণুনাশক দ্বারা ধোয়া প্রয়োজন।
গবাদিপশুর বাসস্থান দুই ধরণের হতে পারেঃ
১·উন্মুক্ত বা উদাম ঘর
২·বাঁধা ও প্রচলিত ঘর।
বাঁধা ঘরের বৈশিষ্ট্যঃ এই পদ্ধতিতে গরুর গলায় দড়ি বা লোহার শিকল দিয়ে বেঁধে পালন করা যায়। গাভীর খাদ্য, পানি গ্রহণ এবং দুধ দোহন একই স্থানে করা যায়।
সুবিধাঃ বাঁধা থাকে বিধায় গাভীর দুধ দোহন সহজ হয়, প্রতিকূল আবহাওয়ায় পশু নিরাপদ থাকে, কৃত্রিম প্রজননের জন্য বেশ সুবিধাজনক, নির্ধারিত অল্প জায়গায় পশু পালন করা যায়।
অসুবিধাঃ এই পদ্ধতিতে ঘর তৈরি খরচ বেশি, পশুর সহজে ঘোরাফেরার ব্যবস্থা থাকে না, এতে পশুর গাভীর বিভিন্ন ধরনের রোগ হবার সম্ভাবনা থাকে, একই জায়গায় দিনরাত্রি বাঁধা থাকে বলে মেঝে স্যাঁতস্যাঁতে থাকে।
বাঁধা ঘরের নকশাঃ এই পদ্ধতির গো-শালায় পশু সব সময় বাঁধা অবস্থায় থাকে। এজন্য গো-শালা যাতে সহজে পরিস্কার করা যায় সেদিকে লক্ষ্য রেখে ঘর তৈরি করা প্রয়োজন। প্রচলিত গো-শালা দুই ধরনের হয়-
একসারি বিশিষ্ট গো-শালাঃ অল্প সংখ্যক গবাদি পশুর জন্য একটি লম্বা সারিতে বেঁধে পালনের জন্য এই গো-শালা তৈরি করা হয়। প্রতিটি পশুকে পৃথক রাখার জন্য জিআইপাইপ দিয়ে পার্টিশন দেয়া হয়, পার্টিশনের পাইপ লম্বায় ৯০ সে·মি·এবং উচ্চতায় ৪৫ সে·মি·হওয়া প্রয়োজন, একটি গরুর দাঁড়াবার স্থান ১৬৫ সে·মি·, পাশের জায়গা ১০৫ সে·মি·, খাবার পাত্র ৭৫ সে·মি·এবং নালা ৩০ সে·মি·হওয়া প্রয়োজন, একই মাপে পশুর সংখ্যা অনুযায়ী জায়গা নির্ধারণ করে গো-শালা তৈরি করা হয়, গো-শালা হবে একচালা বিশিষ্ট ঘর, ঘরের ছাদ প্রায় ৩০০ সে·মি·উঁচুতে করতে হয়।
দুই সারি বিশিষ্ট গো-শালাঃ অল্প জায়গায় অধিক পশুপালনের জন্য এ ধরণের গো-শালা তৈরি করা হয়, এ ধরনের গো-শালায় পশুকে দুভাবে রাখা যায়, মুখোমুখি পদ্ধতি ও বাহির মুখ পদ্ধতি। মুখোমুখি পদ্ধতিতে দুই সারি পশু সামনাসামনি থাকে। দুইসারি খাবারের পাত্রের মাঝখানে ১২০ সে·মি·চওড়া রাস্তôা থাকে- যা পাত্রে খাবার দেবার জন্য ব্যবহার করা হয়, একটি গরুর জন্য দাঁড়ানোর জায়গা ৫·৫ ফুট, পাশের জায়গা ৩·৫ ফুট।
সুবিধাঃ একই সাথে দুইসারি পশুকে সহজে খাবার ও পানি সরবরাহ করা যায়, দুধ দোহনের জন্য অধিকতর আলো পাওয়া যায়, পশু নিজ জায়গায় স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে, পরিচর্যাকারী সহজে চলাফেরা করতে পারে।
গাভীর খাদ্য সরবরাহ 
কাঁচা ঘাস (পরিস্কার স্থান থেকে সংগ্রহ করা সবুজ ঘাস) ২০-৩০ কেজি, দানাদার খাদ্য মিশ্রণঃ ১৮-২০% প্রোটিন সমৃদ্ধঃ ১ম ৩ কেজি দুধ উৎপাদনের জন্য- ০৩ কেজি, পরবর্তী প্রতি কেজি দুধ উৎপাদনের জন্য-০·৫ কেজি, লবণ-৫০-৬০ গ্রাম, পরিস্কার পানি-প্রয়োজন মত।
পরিচর্যাঃ
গাভীর সঠিক পরিচর্যা না করলে অস্ট্রেলিয়া বা নিউজিল্যান্ডের উন্নত জাতের গাভী পালন করেও গাভীকে সুস্থ সবল রোগমুক্ত উৎপাদনক্ষম রাখা সম্ভব হবে না। ফলে গাভী হতে কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ দুধ, গোশত পাওয়া যাবে না এবং গাভী পালন অলাভজনক হবে। গাভী মারা যাওয়ার সমূহ সম্ভাবনা থাকবে। এজন্য একজন খামারীকে আমি প্রথমেই পরামর্শ দিবে যে লক্ষ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করে গাভীর খামার করার আগে কমপক্ষে ৬/৮ মাস অবশ্যই কোন একটি গাভীর খামারের সাথে লেগে থাকতে হবে। অন্যথায় খামার শুরু করে এক বছর পরে খামারীকে অবশ্যই অবশ্যই লস গুনতে হবে।
দুধ দোহনঃ
গাভীর দুধ দৈনিক ভোরে একবার এবং বিকালে একবার নির্দিষ্ট সময়ে দোহন করতে হবে। দুধ দোহনের পূর্বে গাভীর উলান ও দোহনকারীর হাত পরিস্কার ডেটল মিশ্রিত পানি দিয়ে ভালভাবে ধুয়ে নিতে হবে।
প্রজননঃ
গাভীর বংশানুক্রমিক গুণগতমান উন্নয়নের জন্য সুষ্ঠু পরিকল্পিত প্রজনন ব্যবস্থা অবলম্বন করতে হবে। যে ষাড়ের মা, দাদী, নানী যত বেশি পরিমাণ দুধ দেয় তার বাচ্চার দুধ উৎপাদনের ক্ষমতা ততই বেশি হয়। তাই যখন গাভী ষাড়ের সাথে মিশতে চাবে, তখন গুণগতমানসম্পন্ন ষাড়ের বীজ দ্বারা নিকটস্থ কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্র হতে গাভীকে প্রজনন করিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।
খামারের রেকর্ড সংরক্ষণঃ
খামারের লাভক্ষতি নিরূপণ আয়-ব্যয়ের সঠিক হিসাবের উপর নির্ভরশীল। সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য পরিকল্পনা ও লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের বিয়য়ে মূল্যায়ন করা দরকার। খামারের উৎপাদিত পণ্যের হিসাব, ক্রয়, বিক্রয়, জন্ম, মৃত্যু এবং কৃত্রিম প্রজনন কার্যক্রমের জন্য সঠিক তথ্য রক্ষাকল্পে রেকর্ড সংরক্ষণ করা অত্যাবশ্যকীয়। এটি একটি খামারের অতীব গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।
উন্মুক্ত বাসস্থানে নিম্নোক্ত হারে জায়গার প্রয়োজনঃ
পশুর ধরণ ঘরে প্রতি পশু স্থান প্রতি পশুর জন্য মুক্ত স্থান খাদ্যপাত্র
বাড়ন্ত বাছুর ২·৫-৩ বর্গ মিটার ৫-৬ বর্গ মিটার ৩৭-৫০ সেন্টিমিটার
গাভী ৩-৩·৫ বর্গ মিটার ৮-১০ বর্গ মিটার ৫০-৬০ সেন্টিমিটার
গর্ভবতী গাভী ১০-১২ বর্গ মিটার ১৮-২০ বর্গ মিটার ৬০-৭০ সেন্টিমিটার।
(এটি একটি প্রাথমিক ধারণামূলক আর্টিকেল। আরো বিস্তারিত তথ্যের জন্য কিছু বই সংগ্রহ করা যেতে পারে। কেউ প্রয়োজন মনে করলে আমাকে মেইল করবেন।)
গাভীর খামার ব্যবস্থাপনা
বাংলাদেশে প্রতিবছর দুধের চাহিদা ১২•৫২ মিলিয়ন মেট্রিক টন, উৎপাদন হচ্ছে প্রতিবছর ২•২৮ মিলিয়ন মেট্রিক টন, ঘাটতি প্রতিবছর ১০•২৪ মিলিয়ন মেট্রিক টন। চাহিদার আলোকে আমাদের দেশে ছোট-বড় প্রায় ৪৭,৭১০টি ডেইরি খামার গড়ে উঠেছে। বর্তমানে শংকর জাতের গাভী পালনের মাধ্যমে দুগ্ধ খামার স্থাপন একটি লাভজনক ব্যবসা। ফলে গাভী পালনে উন্নত ব্যবস্থাপনা, সঠিক প্রজনন, সুষম খাদ্য, রোগদমন ও প্রাথমিক চিকিৎসা সম্পর্কে আধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কে খামারিদের জানা প্রয়োজন।
ভালজাতের গাভীর বৈশিষ্ট্য-
মাথাঃ হালকা ও ছোট আকার, কপাল প্রশস্তô, উজ্জ্বল চোখ, খাদ্যের প্রতি আগ্রহ।
দৈহিক বৈশিষ্ট্যঃ দেহের সামনে দিক হালকা, পিছনের দিক ভারী ও সুসংগঠিত, দৈহিক আকার আকর্ষণীয়, শরীরের গঠন ঢিলা।
পাজরঃ পাজরের হাড় স্পষ্ট, হাড়ের গঠন সামঞ্জস্যপুর্ণ।
চামড়াঃ চামড়া পাতলা, চামড়ার নীচে অহেতুক চর্বি জমা থাকবে না, চামড়ার রঙ উজ্জ্বল, লোম মসৃণ ও চকচকে হবে।
ওলানঃ ওলান বড় সুগঠিত ও দেহের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, বাটগুলো একই আকারের হবে। চারবাট সমান দূরত্বে ও সমান্তরাল হবে। দুগ্ধশিরাঃ দুগ্ধশিরা মোটা ও স্পষ্ট, তলপেটে নাভীর পাশ দিয়ে দুগ্ধশিরা আঁকাবাঁকাভাবে বিস্তৃত থাকবে।
খামার ব্যবস্থাপনাঃ খামার ব্যবস্থাপনা এক প্রকার কৌশল যার মাধ্যমে খামারের সম্পদ, সুযোগ ও সময়ের সমন্বয় ঘটানো যায়। সুষ্ঠ ব্যবস্থাপনার সুফল হল- ১• সম্পদের মিতব্যয়িতা ২• স্বল্প সময়ে ফললাভ ৩• স্বল্প সময়ে অধিক উৎপাদন ৪• শক্তি ও শ্রমের অপচয় রোধ ৫• উৎপাদনে গুণগতমান ও উৎকর্ষতা লাভ।
সাধারণ ব্যবস্থাপনাঃ গাভী তার গুণগতমান উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়ে থাকে। কিন্তু গাভীর বংশানুক্রমিক গুণগতমান যতই ভাল হোক এর ব্যবস্থাপনা সমন্ধে বিশেষ যত্নবান হওয়া প্রয়োজন। দৈনন্দিন পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা রক্ষা, বিজ্ঞান সম্মত বাসস্থান, সুষম খাদ্য সরবরাহ, সঠিক প্রজনন, রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ইত্যাদি উন্নত গাভী পালনের মৌলিক বিষয়।
বাসস্থানঃ পারিবারিক পর্যায়ে বা খামার পর্যায়ে গাভী পালন করতে হলে গাভীর জন্য ভাল বাসস্থান প্রয়োজন। গাভীকে বিভিন্ন প্রতিকূল অবস্থা যেমন- ঝড়, বৃষ্টি, অতিরিক্ত ঠাণ্ডা ও গরম এবং অন্যান্য নৈসর্গিক দৈব দুর্বিপাক, পোকামাকড়, চোর, বন্য-জীবজন্তু হতে রক্ষা করার জন্য যথোপযুক্ত বাসস্থান বা গোয়ালঘর প্রয়োজন। আমাদের আবহাওয়ার আলোকে ঘরে প্রচুর আলো বাতাস চলাচলের জন্য ঘরটি উত্তর-দক্ষিণমুখী হওয়া বাঞ্চনীয়। কোন অবস্থাতেই যেন ঘরে স্যাঁতস্যাঁতে অবস্থা যেন না থাকে। এতে ঘরের মেঝেটি ইট বিছানো থাকলে ভাল হয়। ঘরের দুর্গন্ধ ও মশামাছি দমনের জন্য মাঝে মাঝে জীবাণুনাশক দ্বারা ধোয়া প্রয়োজন।
গবাদিপশুর বাসস্থান দুই ধরণের হতে পারেঃ ১• উন্মুক্ত বা উদাম ঘর ২• বাঁধা ও প্রচলিত ঘর।
বাঁধা ঘরের বৈশিষ্ট্যঃ এই পদ্ধতিতে গরুর গলায় দড়ি বা লোহার শিকল দিয়ে বেঁধে পালন করা যায়। গাভীর খাদ্য, পানি গ্রহণ এবং দুধ দোহন একই স্থানে করা যায়।
সুবিধাঃ বাঁধা থাকে বিধায় গাভীর দুধ দোহন সহজ হয়, প্রতিকূল আবহাওয়ায় পশু নিরাপদ থাকে, কৃত্রিম প্রজননের জন্য বেশ সুবিধাজনক, নির্ধারিত অল্প জায়গায় পশু পালন করা যায়।
অসুবিধাঃ এই পদ্ধতিতে ঘর তৈরি খরচ বেশি, পশুর সহজে ঘোরাফেরার ব্যবস্থা থাকে না, এতে পশুর ব্যয়াম না হওয়াতে বিভিন্ন ধরনের রোগ হবার সম্ভাবনা থাকে, একই জায়গায় দিনরাত্রি বাঁধা থাকে বলে মেঝে স্যাঁতস্যাঁতে থাকে।
বাঁধা ঘরের নকশাঃ এই পদ্ধতির গো-শালায় পশু সব সময় বাঁধা অবস্থায় থাকে। এজন্য গো-শালা যাতে সহজে পরিস্কার করা যায় সেদিকে লক্ষ্য রেখে ঘর তৈরি করা প্রয়োজন। প্রচলিত গো-শালা দুই ধরনের হয়-
একসারি বিশিষ্ট গো-শালাঃ অল্প সংখ্যক গবাদি পশুর জন্য একটি লম্বা সারিতে বেঁধে পালনের জন্য এই গো-শালা তৈরি করা হয়। প্রতিটি পশুকে পৃথক রাখার জন্য জিআইপাইপ দিয়ে পার্টিশন দেয়া হয়, পার্টিশনের পাইপ লম্বায় ৯০ সে•মি• এবং উচ্চতায় ৪৫ সে•মি• হওয়া প্রয়োজন, একটি গরুর দাঁড়াবার স্থান ১৬৫ সে•মি•, পাশের জায়গা ১০৫ সে•মি•, খাবার পাত্র ৭৫ সে•মি• এবং নালা ৩০ সে•মি• হওয়া প্রয়োজন, একই মাপে পশুর সংখ্যা অনুযায়ী জায়গা নির্ধারণ করে গো-শালা তৈরি করা হয়, গো-শালা হবে একচালা বিশিষ্ট ঘর, ঘরের ছাদ প্রায় ৩০০ সে•মি• উঁচুতে করতে হয়।
দুই সারি বিশিষ্ট গো-শালাঃ অল্প জায়গায় অধিক পশুপালনের জন্য এ ধরণের গো-শালা তৈরি করা হয়, এ ধরনের গো-শালায় পশুকে দুভাবে রাখা যায়, মুখোমুখি পদ্ধতি ও বাহির মুখ পদ্ধতি। মুখোমুখি পদ্ধতিতে দুই সারি পশু সামনাসামনি থাকে। দুইসারি খাবারের পাত্রের মাঝখানে ১২০ সে•মি• চওড়া রাস্তôা থাকে- যা পাত্রে খাবার দেবার জন্য ব্যবহার করা হয়, একটি গরুর জন্য দাঁড়ানোর জায়গা ৫•৫ ফুট, পাশের জায়গা ৩•৫ ফুট।
সুবিধাঃ একই সাথে দুইসারি পশুকে সহজে খাবার ও পানি সরবরাহ করা যায়, দুধ দোহনের জন্য অধিকতর আলো পাওয়া যায়, পশু নিজ জায়গায় স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে, পরিচর্যাকারী সহজে চলাফেরা করতে পারে।
একটি গাভীকে নিম্ন তালিকা অনুসারে খাদ্য সরবরাহ করতে হবেঃ কাঁচা ঘাস (সবুজ ঘাস) ২০-৩০ কেজি, দানাদার খাদ্য মিশ্রণঃ ১৮-২০% প্রোটিন সমৃদ্ধঃ ১ম ৩ কেজি দুধ উৎপাদনের জন্য- ০৩ কেজি, পরবর্তী প্রতি কেজি দুধ উৎপাদনের জন্য-০•৫ কেজি, লবণ-৫০-৬০ গ্রাম, পরিস্কার পানি-প্রয়োজন মত।
পরিচর্যাঃ গাভীর সঠিক পরিচর্যা না করলে উন্নত জাতের গাভী পালন করেও গাভীকে সুস্থ সবল উৎপাদনক্ষম রাখা সম্ভব হবে না। ফলে গাভী হতে কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ দুধ, মাংস পাওয়া যাবে না এবং গাভী পালন অলাভজনক হবে।
দুধ দোহনঃ গাভীর দুধ দৈনিক ভোরে একবার এবং বিকালে একবার নির্দিষ্ট সময়ে দোহন করতে হবে। দুধ দোহনের পূর্বে গাভীর উলান ও দোহনকারীর হাত পরিস্কার পানি দিয়ে ভালভাবে ধুয়ে নিতে হবে।
প্রজননঃ গাভীর বংশানুক্রমিক গুণগতমান উন্নয়নের জন্য সুষ্ঠু পরিকল্পিত প্রজনন ব্যবস্থা অবলম্বন করতে হবে। যে ষাড়ের মা, দাদী, নানী যত বেশি পরিমাণ দুধ দেয় তার বাচ্চার দুধ উৎপাদনের ক্ষমতা ততই বেশি হয়। তাই যখন গাভী গরম হবে তখন গুণগতমানসম্পন্ন ষাড়ের বীজ দ্বারা নিকটস্থ কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্র হতে গাভীকে প্রজনন করিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।
খামারের রেকর্ড সংরক্ষণঃ খামারের লাভক্ষতি নিরূপণ আয়-ব্যয়ের সঠিক হিসাবের উপর নির্ভরশীল। সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য পরিকল্পনা ও লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের বিয়য়ে মূল্যায়ন করা দরকার। খামারের উৎপাদিত পণ্যের হিসাব, ক্রয়, বিক্রয়, জন্ম, মৃত্যু এবং কৃত্রিম প্রজনন কার্যক্রমের জন্য সঠিক তথ্য রক্ষাকল্পে রেকর্ড সংরক্ষণ করা অত্যাবশ্যকীয়।
উন্মুক্ত বাসস্থানে নিম্নোক্ত হারে জায়গার প্রয়োজনঃ
পশুর ধরণ ঘরে প্রতি পশু স্থান প্রতি পশুর জন্য মুক্ত স্থান খাদ্যপাত্র
বাড়ন্ত বাছুর ২•৫-৩ বর্গ মিটার ৫-৬ বর্গ মিটার ৩৭-৫০ সেন্টিমিটার
গাভী ৩-৩•৫ বর্গ মিটার ৮-১০ বর্গ মিটার ৫০-৬০ সেন্টিমিটার
গর্ভবতী গাভী ১০-১২ বর্গ মিটার ১৮-২০ বর্গ মিটার ৬০-৭০ সেন্টিমিটার

গাভীর খামার ব্যবস্থাপনা

বাংলাদেশে প্রতিবছর দুধের চাহিদা ১২.৫২ মিলিয়ন মেট্রিক টন, উৎপাদন হচ্ছে প্রতিবছর ২.২৮ মিলিয়ন মেট্রিক টন, ঘাটতি প্রতিবছর ১০.২৪ মিলিয়ন মেট্রিক টন। চাহিদার আলোকে আমাদের দেশে ছোট-বড় প্রায় ৪৭,৭১০টি ডেইরি খামার গড়ে উঠেছে। বর্তমানে শংকর জাতের গাভী পালনের মাধ্যমে দুগ্ধ খামার স্থাপন একটি লাভজনক ব্যবসা। ফলে গাভী পালনে উন্নত ব্যবস্থাপনা, সঠিক প্রজনন, সুষম খাদ্য, রোগদমন ও প্রাথমিক চিকিৎসা সম্পর্কে আধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কে খামারিদের জানা প্রয়োজন। 
ভালজাতের গাভীর বৈশিষ্ট্য মাথা : হালকা ও ছোট আকার, কপাল প্রশসত্দ, উজ্জ্বল চোখ, খাদ্যের প্রতি আগ্রহ। দৈহিক বৈশিষ্ট্য : দেহের সামনে দিক হালকা, পিছনের দিক ভারী ও সুসংগঠিত, দৈহিক আকার আকর্ষণীয়, শরীরের গঠন ঢিলা। পাজর : পাজরের হাড় স্পষ্ট, হাড়ের গঠন সামঞ্জস্যপুর্ণ। চামড়া : চামড়া পাতলা, চামড়ার নীচে অহেতুক চর্বি জমা থাকবে না, চামড়ার রঙ উজ্জ্বল, লোম মসৃণ ও চকচকে হবে। ওলান : ওলান বড় সুগঠিত ও দেহের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, বাটগুলো একই আকারের হবে। চারবাট সমান দূরত্বে ও সমানত্দরাল হবে। দুগ্ধশিরা : দুগ্ধশিরা মোটা ও স্পষ্ট, তলপেটে নাভীর পাশ দিয়ে দুগ্ধশিরা আঁকাবাঁকাভাবে বিস্তৃত থাকবে। 
খামার ব্যবস্থাপনা: খামার ব্যবস্থাপনা এক প্রকার কৌশল যার মাধ্যমে খামারের সম্পদ, সুযোগ ও সময়ের সমন্বয় ঘটানো যায়। সুষ্ঠ ব্যবস্থাপনার সুফল হল-
১. সম্পদের মিতব্যয়িতা
২. স্বল্প সময়ে ফললাভ
৩. স্বল্প সময়ে অধিক উৎপাদন
৪. শক্তি ও শ্রমের অপচয় রোধ
৫. উৎপাদনে গুণগতমান ও উৎকর্ষতা লাভ। 
সাধারণ ব্যবস্থাপনা: গাভী তার গুণগতমান উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়ে থাকে। কিন্তু গাভীর বংশানুক্রমিক গুণগতমান যতই ভাল হোক এর ব্যবস্থাপনা সমন্ধে বিশেষ যত্নবান হওয়া প্রয়োজন। দৈনন্দিন পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা রক্ষা, বিজ্ঞান সম্মত বাসস্থান, সুষম খাদ্য সরবরাহ, সঠিক প্রজনন, রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ইত্যাদি উন্নত গাভী পালনের মৌলিক বিষয়। 
বাসস্থান: পারিবারিক পর্যায়ে বা খামার পর্যায়ে গাভী পালন করতে হলে গাভীর জন্য ভাল বাসস্থান প্রয়োজন। গাভীকে বিভিন্ন প্রতিকূল অবস্থা যেমন- ঝড়, বৃষ্টি, অতিরিক্ত ঠাণ্ডা ও গরম এবং অন্যান্য নৈসর্গিক দৈব দুর্বিপাক, পোকামাকড়, চোর, বন্য-জীবজন্তু হতে রক্ষা করার জন্য যথোপযুক্ত বাসস্থান বা গোয়ালঘর প্রয়োজন। আমাদের আবহাওয়ার আলোকে ঘরে প্রচুর আলো বাতাস চলাচলের জন্য ঘরটি উত্তর-দক্ষিণমুখী হওয়া বাঞ্চনীয়। কোন অবস্থাতেই যেন ঘরে স্যাঁতস্যাঁতে অবস্থা যেন না থাকে। এতে ঘরের মেঝেটি ইট বিছানো থাকলে ভাল হয়। ঘরের দুর্গন্ধ ও মশামাছি দমনের জন্য মাঝে মাঝে জীবাণুনাশক দ্বারা ধোয়া প্রয়োজন। 
গবাদিপশুর বাসস্থান দুই ধরণের হতে পারে : ১. উন্মুক্ত বা উদাম ঘর ২. বাঁধা ও প্রচলিত ঘর। 
বাঁধা ঘরের বৈশিষ্ট্য: এই পদ্ধতিতে গরুর গলায় দড়ি বা লোহার শিকল দিয়ে বেঁধে পালন করা যায়। গাভীর খাদ্য, পানি গ্রহণ এবং দুধ দোহন একই স্থানে করা যায়। 
সুবিধা : বাঁধা থাকে বিধায় গাভীর দুধ দোহন সহজ হয়, প্রতিকূল আবহাওয়ায় পশু নিরাপদ থাকে, কৃত্রিম প্রজননের জন্য বেশ সুবিধাজনক, নির্ধারিত অল্প জায়গায় পশু পালন করা যায়। 
অসুবিধা: এই পদ্ধতিতে ঘর তৈরি খরচ বেশি, পশুর সহজে ঘোরাফেরার ব্যবস্থা থাকে না, এতে পশুর ব্যয়াম না হওয়াতে বিভিন্ন ধরনের রোগ হবার সম্ভাবনা থাকে, একই জায়গায় দিনরাত্রি বাঁধা থাকে বলে মেঝে স্যাঁতস্যাঁতে থাকে। 
বাঁধা ঘরের নকশা: এই পদ্ধতির গো-শালায় পশু সব সময় বাঁধা অবস্থায় থাকে। এজন্য গো-শালা যাতে সহজে পরিস্কার করা যায় সেদিকে লক্ষ্য রেখে ঘর তৈরি করা প্রয়োজন। প্রচলিত গো-শালা দুই ধরনের হয়- 
একসারি বিশিষ্ট গো-শালা: অল্প সংখ্যক গবাদি পশুর জন্য একটি লম্বা সারিতে বেঁধে পালনের জন্য এই গো-শালা তৈরি করা হয়। প্রতিটি পশুকে পৃথক রাখার জন্য জিআইপাইপ দিয়ে পার্টিশন দেয়া হয়, পার্টিশনের পাইপ লম্বায় ৯০ সে.মি. এবং উচ্চতায় ৪৫ সে.মি. হওয়া প্রয়োজন, একটি গরুর দাঁড়াবার স্থান ১৬৫ সে.মি., পাশের জায়গা ১০৫ সে.মি., খাবার পাত্র ৭৫ সে.মি. এবং নালা ৩০ সে.মি. হওয়া প্রয়োজন, একই মাপে পশুর সংখ্যা অনুযায়ী জায়গা নির্ধারণ করে গো-শালা তৈরি করা হয়, গো-শালা হবে একচালা বিশিষ্ট ঘর, ঘরের ছাদ প্রায় ৩০০ সে.মি. উঁচুতে করতে হয়। 
দুই সারি বিশিষ্ট গো-শালা: অল্প জায়গায় অধিক পশুপালনের জন্য এ ধরণের গো-শালা তৈরি করা হয়, এ ধরনের গো-শালায় পশুকে দুভাবে রাখা যায়, মুখোমুখি পদ্ধতি ও বাহির মুখ পদ্ধতি। মুখোমুখি পদ্ধতিতে দুই সারি পশু সামনাসামনি থাকে। দুইসারি খাবারের পাত্রের মাঝখানে ১২০ সে.মি. চওড়া রাসত্দা থাকে- যা পাত্রে খাবার দেবার জন্য ব্যবহার করা হয়, একটি গরুর জন্য দাঁড়ানোর জায়গা ৫.৫ ফুট, পাশের জায়গা ৩.৫ ফুট। 
সুবিধা: একই সাথে দুইসারি পশুকে সহজে খাবার ও পানি সরবরাহ করা যায়, দুধ দোহনের জন্য অধিকতর আলো পাওয়া যায়, পশু নিজ জায়গায় স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে, পরিচর্যাকারী সহজে চলাফেরা করতে পারে। 
একটি গাভীকে নিম্ন তালিকা অনুসারে খাদ্য সরবরাহ করতে হবে :
কাঁচা ঘাস (সবুজ ঘাস) ২০-৩০ কেজি, দানাদার খাদ্য মিশ্রণ: ১৮-২০% প্রোটিন সমৃদ্ধ: ১ম ৩ কেজি দুধ উৎপাদনের জন্য- ০৩ কেজি, পরবর্তী প্রতি কেজি দুধ উৎপাদনের জন্য-০.৫ কেজি, লবণ-৫০-৬০ গ্রাম, পরিস্কার পানি-প্রয়োজন মত। 
পরিচর্যা: গাভীর সঠিক পরিচর্যা না করলে উন্নত জাতের গাভী পালন করেও গাভীকে সুস্থ সবল উৎপাদনক্ষম রাখা সম্ভব হবে না। ফলে গাভী হতে কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ দুধ, মাংস পাওয়া যাবে না এবং গাভী পালন অলাভজনক হবে। 
দুধ দোহন: গাভীর দুধ দৈনিক ভোরে একবার এবং বিকালে একবার নির্দিষ্ট সময়ে দোহন করতে হবে। দুধ দোহনের পূর্বে গাভীর উলান ও দোহনকারীর হাত পরিস্কার পানি দিয়ে ভালভাবে ধুয়ে নিতে হবে। 
প্রজনন: গাভীর বংশানুক্রমিক গুণগতমান উন্নয়নের জন্য সুষ্ঠু পরিকল্পিত প্রজনন ব্যবস্থা অবলম্বন করতে হবে। যে ষাড়ের মা, দাদী, নানী যত বেশি পরিমাণ দুধ দেয় তার বাচ্চার দুধ উৎপাদনের ক্ষমতা ততই বেশি হয়। তাই যখন গাভী গরম হবে তখন গুণগতমানসম্পন্ন ষাড়ের বীজ দ্বারা নিকটস্থ কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্র হতে গাভীকে প্রজনন করিয়ে নেওয়া প্রয়োজন। 
খামারের রেকর্ড সংরক্ষণ: খামারের লাভক্ষতি নিরূপণ আয়-ব্যয়ের সঠিক হিসাবের উপর নির্ভরশীল। সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য পরিকল্পনা ও লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের বিয়য়ে মূল্যায়ন করা দরকার। খামারের উৎপাদিত পণ্যের হিসাব, ক্রয়, বিক্রয়, জন্ম, মৃতু্য এবং কৃত্রিম প্রজনন কার্যক্রমের জন্য সঠিক তথ্য রক্ষাকল্পে রেকর্ড সংরক্ষণ করা অত্যাবশ্যকীয়। 
উন্মুক্ত বাসস্থানে নিম্নোক্ত হারে জায়গার প্রয়োজন:
পশুর ধরণ ঘরে প্রতি পশু স্থান প্রতি পশুর জন্য মুক্ত স্থান খাদ্যপাত্র
বাড়ন্ত বাছুর ২.৫-৩ বর্গ মিটার ৫-৬ বর্গ মিটার ৩৭-৫০ সেন্টিমিটার
গাভী ৩-৩.৫ বর্গ মিটার ৮-১০ বর্গ মিটার ৫০-৬০ সেন্টিমিটার
গর্ভবতী গাভী ১০-১২ বর্গ মিটার ১৮-২০ বর্গ মিটার ৬০-৭০ সেন্টিমিটার। 

বাংলাদেশের সকল জেলার ডেইরী খামারিদের ঠিকানা ও মোবাইল নাম্বার।

নতুন খামারি বিশেষত যারা পরিকল্পনা করছেন খামার করার, তাদের জন্য গবেষকদের পরামর্শ হচেছ খামার করার পুর্বে কমপক্ষে ৫ টি খামার ঘুরে দেখা অত্যাবশ্যকীয় । বাংলাদেশের সকল জেলার ডেইরী খামারিদের ঠিকানা , মোবাইল নাম্বার নিচে দেয়া হল যাতে করে আপনি সহজে আপনার এলাকার বিজ্ঞ খামারিদের সাথে আলোচনা করতে পারেন ।

Dhaka(ঢাকা )
১। HR agro Farms .
Moinartak,uttarkhan, dhaka;1230
01678-113848
২। Organic Dairy & Agrovet.
Road no.1,Block B/D Shatmashjid Housing,Beribad
Bhanga Moshjid, Mohammadpur,Dhaka, Bangladesh.
01771770474,01682031355,01715048584
৩। স্বপ্নচূড়া এগ্রো এন্ড ডেইরিফার্ম
muhammadpur, Dhaka Uddan.
01680-192130,01712-993667
৪। আমানাহ্ এগ্রো লিঃ
Dhaka 1230
01716-057905
৫। Bikrampur agro
226,Beribadh switch gate,Adabor(opposite Azim
garments tower),Mohammadpur,Dhaka-1207
01536-146269
৬। Sadeeq AGRO
GATE NO 7, CHANDRIMA MODEL TOWN
,Ramchandrapur,Dhaka 6302
01715-175616
৭। Meghdubi Agro.
Shatarkul,Dhaka
01711-525043
Chittagong(চট্টগ্রাম)
৮। Hillsdale Multi Farm
Chittagong
Rana :019 9545 4303
৯। Chowdhury Agro Farms Ltd
chittagong
01717277777
১০। Nahar Agro Group
১৯০, ঝাউতলা বাজার, খুলশী, চট্টগ্রাম-৪২০২।
ফোন: ০৩১-৬২৩৭২৭, ৬৫৯৩৫৪
ফ্যাক্স: ০০৮৮-০৩১-৬৫৯২১৫
মোবাইল: ০১৮১৯-৮৫০৬৩০
ই-মেইল: naharpoultry@yahoo.com
Mirsarai, Chittagong, Bangladesh 4202
Cox’s Bazar(কক্সবাজার)
১১। সী স্টার ডেইরী ও গরু মোটাতাজাকরণ প্রকল্প
মধ্যম খুনিয়া পালং ,রাবেতা ,রামু,Cox’s Bazar 4741
01819-666432
Naogaon(নওগাঁ )
১২। গরু এবং ছাগল খামার
Naogan
01753-473073
Pabna(পাবনা)
১৩। রাতুল ডেইরী গরু খামার
চাটমোহর , পাবনা
০১৭৭০৮১৪৪৮৯
১৪। মীনা ডেইরি ফার্ম
Food & Beverage Company,Bera
01715-259319
Jessore( যশোর)
১৫। jessore Dairy Farm
Navaron ,Jessore
Mahfuzur-01711942517
Mahabub Babu -01712696909
Tongi (টঙ্গী)
১৬। টঙ্গী বোর্ড বাজার
০১৯৩২৯৯৯৬৬৬, ০১৯১৫৫৭৩৫৫৬
Gazipur( গাজীপুর )
১৭। Bangladesh Livestock & Dairy Farm
Gazipur
01611-111007
১৮। Ark Bangla Concern ,1712
Tongi,Gazipur
01611585778
 Narayanganj (নারায়ণগঞ্জ)
১৯। আয়াত এগ্রো এন্ড ফার্মস
ভিংরাবো, রুপগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ
০১৬৭৫৪২৫৭৭৫.
২০। Norshingpur Dairy Farm
Moddho Norshingpur, Kashipur
Narayanganj 1400
01798-883770
Khulna( খুলনা )
২১।  JABUSHA -ILAIPUR LINK        
       ROAD,JABUSHA,RUPSHA,Khulna
01775-009131
২২। মিড এগ্রো এন্ড ডেইরি ফার্ম
Shailkupa,Jhenidah,Khulna,Bangladesh
২৩। মা ডেইরি ফার্ম
Satkhira, Khulna, Bangladesh
01796-390077
Savar( সাভার )
২৪। Savar Military Dairy Farm
01673545553
Mymensingh (ময়মনসিংহ)
২৫। আল বাইছ ডেইরি ফার্ম
01677528927
Rājshāhi (রাজশাহী)
২৬। Master Agro-মাস্টার এগ্রো
Village: Ganamangal, P.O: Utar Hatshahar,
P.O:Khetlal, Joypur 5930
01717-636059
Chadpur( চাঁদপুর )
২৭।  Ihan Agro
Matlab Bazar, chadpur
01827-018424
Comilla ( কুমিল্লা )
২৮। Mina Agro Farm, Comilla
01536-237192
Sirajganj(সিরাজগঞ্জ)
২৯। Talukder Dairy Farm
soyadhangora moddho para,Sirajganj
01674-931347
Kishoreganj(কিশোরগঞ্জ)
৩০। Kayum Agro
Raitoti,Itna,Kishoreganj,2390
01713-518443
Feni(ফেনী )
৩১। Arman: 01816-086626
Barisal (বরিশাল)
৩২। Md Bipu
বরিশাল, বানারিপারা।
০১৭৮৩৯৬৯১৯৪
Rajbari( রাজবাড়ী)
৩৩। বাহাদুরপুর এ্যাগ্রো ফার্ম
পাংশা, বাহাদুরপুর, রাজবাড়ী।
+8801753581912
+8801711227407
Sylhet( সিলেট)
৩৪। Shafia Dairy & Fisheries
Madhabpur
01620-853045
*******************
৩৫। HAFIZ DAIRY FARM
01761745180.
৩৬। কাজী ডেইরি ফার্ম
8801717178169
৩৭। নিজাম পোল্টি ও ডেইরি ফার্ম
01839086700
৩৮। সাইদুল ডেইরী ফার্ম । Saidul Dairy Farm
01791-118966
৩৯। চৌধুরী ডেইরী খামার
০১৭১১২৬২৬১৯
৪০। পি এ গরু মোটা তাজা করন খামার
01857256913

কোয়েল পালন সম্পর্কিতপ্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্নঃ  কোয়েল কত দিনে ডিম দেয় ? উত্তরঃ  কোয়েল পাখি সাধারনত ৪৫ দিন বয়স থেকে ডিম দিতে শুরু করে । তবে বাস্তবে প্রায় ৫৫ - ৬০ দিন সময় লেগে ...