Tuesday, February 19, 2019

এক হাজার কোয়েল পালনে মাসিক আয়


প্রথমে আমরা হিসাবের সুবিধার্থেকিছু বিষয় ধরে নিব
ডিম দেয়ার হার ৭০-৮০% (গড়ে ৭৫%)
ডিমের দাম ১.৬  ১.৮ টাকা (গড়ে ১.৭ টাকা)
লেয়ার খাবারের দাম(৫০কেজি)প্রতি বস্তা ১৬০০ টাকা
অর্থ্যাত প্রতি কেজির দাম=৩২ টাকা
প্রতিটি কোয়েল খাবার খাবে ২৫ গ্রাম

  • ১০০০ কোয়েলেরমাসিক ব্যয়ঃ
দৈনিক খাবার১০০০x২৫=২৫০০০ গ্রাম=২৫ কেজি
মাসিক খাবার খরচ=২৫x৩০ কেজি=৭৫০কেজিx৩২ টাকা=২৪,০০০ টাকা
)ওষুধ(ভিটামিন,ক্যালসিয়াম,জিংক,এন্টিবায়োটিক্ও অন্যান্য)=,০০০ টাকা
)বিদ্যুৎ বিল =৫০০ টাকা
)লিটার(গাছের গুড়ি,ধানের তুষ) =৩০০ টাকা
)কর্মচারী বেতন- =,০০০ টাকা
অন্যান্য =৪০০ টাকা
(কর্মচারীর বেতন ১০,০০০ টাকা কিন্তু একজন লোক কমপক্ষে ২০০০ পিস কোয়েল দেখাশুনা করতে পারেতাই ১০০০ কোয়েলের হিসাবের জন্য বেতন ৫,০০০ টাকা ধরা হয়েছে)
মোট খরচ=৩১,২০০ টাকা

  • ১০০০ কোয়েল থেকেমাসিক আয়ঃ
দৈনিক ডিম পাওয়া যাবে৭৫০ টি
প্রতিটি ১.৭ টাকা গড়ে
দৈনিক আয়=৭৫০x.=,২৭৫ টাকা
তাহলে,মাসিক আয়=,২৭৫x৩০=৩৮,২৫০ টাকা
  • ১০০০ কোয়েল থেকে মাসিকলাভঃ
মোট আয় ৩৮,২৫০ টাকা
মোট খরচ =৩১,২০০ টাকা
**মাসিক লাভ ৩৮২৫০ -৩১,২০০ টাকা
,০৫০টাকা
এখন যদি আপনি কর্মচারী না রেখে নিজে একটা কষ্ট করে খামারের দেখাশুনা করেন তবে বেচে যাবে আরো ৫০০০ টাকা
**তাহলে লাভ হবে =,০৫০+,০০০=১২,০৫০টাকা
আর ডিমের দাম যদি ২ টাকা পিস হয় তবে আরো অতিরিক্ত লাভ হবে ৬,৭৫০ টাকা
তাহলে টোটাল লাভ হবে=১২,০৫০+,৭৫০=১৮,৮০০ টাকা
এভাবে আপনি ২০০০ কোয়েল পালন করলে আপনি মাসে আয় করতে পারবেন ৩০ হাজারের বেশি টাকা
(লাভের পরিমান সময়ের সাথে বাজার দরের উপরে নির্ভর করবেএখানে শুধু আনুমানিক হিসাব দেখানো হয়েছে)
বিঃদ্রঃ ঢাকার পাইকারি বাজারেগরমের সময় প্রতি শত ডিমের দাম১২০-১৪০ টাকা  হতে পারেতাইআপনাকে নিজের স্থানীয় বাজারেডিম বিক্রির ব্যবস্থা করতে হবেতা নাহলে লাভ থাকবে না লস হবারসম্ভাবনা থাকবে
তাই নিজের এলাকার চাহিদাঅনুযায়ী উৎপাদন করুন কিন্তুশীতের সময় আবার ঢাকারপাইকারি বাজারেই ডিমের দাম টাকা পর্যন্ত হয়তাই শীতের বাজারধরার জন্য শীতের  মাস আগেইপাখি খামারের তুলতে পারেন যদিআপনি সিজনাল ভাবে ব্যবসা করতেচান

কোয়েল পালনের সাম্ভাব্য পুঁজি (১০০০ পাখির)


বিষয়
ধরণ
দর

টাকা
পাখি
মহিলা পাখি(৩০ দিন বয়সী)
গড়ে ৩৫ টাকা প্রতি পিস
১০০০x৩৫
৩৫,০০০/=
2)খাদ্য(ডিম পাড়ার আগ পর্যন্ত)
দৈনিক ২৫ গ্রাম করে ৩০ দিন।
১০০০ পাখির জন্য ১৫ বস্তা(৫০ কেজির বস্তা)
প্রতি বস্তা ২০৫০ টাকা(ব্রয়লারগ্রোয়ার)
১৫x২০৫০
৩০,৭০০/=
3)খাঁচা
লোহার তৈরি(১০০০ পাখির জন্য)
খাঁচার সাথেই পানি ও খাবার পাত্র যুক্ত থাকবে।
দাম খাচার ওজন ও উপাদানের ভিত্তিতে কম বেশি হতে পারে।
২ টি খাঁচায় ৫০০ পিস করে পাখি।
প্রতিটি খাচায় ৫ টি তাক থাকবে।
২৫,০০০/=
4)অন্যান্য
ওষুধ ও অন্যান্য
-------
---------
,৩০০/=



মোট=
৯৩,০০০/=

বিঃদ্রঃ খাঁচা রাখার জন্য যে ঘর বা ছাউনি লাগবে সেই ঘর বা ছাউনি তৈরির খরচ হিসাবের আওতার বাইরে রাখা হল।

কোয়েলের ডিম থেকে বাচ্চা ফুটানোর পদ্ধতি


সাধারনত বানিজ্যিক কোয়েল নিজেরা ডিমে তা দিয়ে বাচ্চা ফুটায় না।কৃত্রিম পদ্ধতিতে ইনকিউবেটর মেশিনের সাহায্যে কোয়েলের ডিম থেকে বাচ্চা ফুটাতে হয়।ইনকিউবেটর মেশিনের সাহায্যে কোয়েলের ডিম থেকে বাচ্চা ফুটের বের হতে প্রায় ১৭-১৮ দিন সময় লাগে।
ইনকিউবেটর মেশিন দিয়ে বাচ্চা ফুটাতে হলে ৪ টি বিষয় কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হয়-
  1. তাপমাত্রা (৩৭.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস)- তাপমাত্রা ০.৫ ডিগ্রি ফারেনহাইটের বেশী ওঠানামা করানো যাবে না
  2. আদ্রতা (৬৫-৭৫আপেক্ষিক আর্দ্রতা)
  3. ভেন্টিলেশন/বায়ু চলাচল-বায়ুচলা চল করে এমন জায়গায় মেশিন টি রাখতে হবে।
  4. টার্নিংডিম ঘুরিয়ে দেয়াপ্রতি ঘণ্টায় একবার ডিম ঘুরিয়ে ডিতে হবে।
বর্তমানে দেশে ভাল মানের আধুনিক অটোমেটিক ইনকিউবেটর মেশিন পাওয়া যায়।
ইনকিউবেটর মেশিনে ২ টি অংশ থাকে।
  1. সেটার- এই অংশে ডিম ৯৯.৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট(F) তাপমাত্রায় ও ৮৬-৮৭ ডিগ্রি আদ্রতায় ১৫ দিন রাখা হয়।এর পরে ডিমের খোলসে ফাটল বা পিপিং শুরু হলে ডিম হ্যাচারে স্থানান্তর করতে হবে।
  2. হ্যাচার- এই অংশে ডিম গুলো ৯৮.৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রা ও ৯০ ডিগ্রি ফারেনহাইট আদ্রতায় রাখতে হবে। এই সময় ডিম ঘুরানো বন্ধ রাখতে হয়। ডিমের খোলস থেকে বাচ্চা বের হবার সর্বোচ্চ ২৪-৩৬ ঘন্টার মধ্যে বাচ্চা গুলা হ্যাচার থেকে বের করে নিয়ে আসতে হবে।
এছাড়া লক্ষণীয় যেডিম বসানোর সময় সরু বা চিকন অংশ নিচের দিকে আর মোটা অংশ উপরের দিকে দিয়ে বসাতে হবে।
দিনরাত ২৪ ঘন্টাই বিদ্যুৎ বা জেনারেটর বা আইপিএস ব্যবস্থা থাকতে হবে।
এই বইয়ের শেষের দিকে ভালমানের ইনকিউবেটর কোম্পানির ঠিকানা ও ফোন নাম্বার দেয়া আছে

নিজেই কোয়েলের খাদ্য তৈরি করার উপায়


আমাদের হাতের নাগালে প্রাপ্ত বিভিন্ন খাদ্য উপাদান দিয়ে নিজেই কোয়েলের জন্য সুষম খাদ্য তৈরি করতে পারেন।
তবে পরামর্শ হল-যদি আপনি বড় পরিসরে খামার করেন তবেই কেবল আপনি নিজে খাদ্য তৈরিকরার চিন্তা করবেন।
নিচে কোয়েলের স্টার্টার,গ্রোয়ার এবং লেয়ার খাদ্য তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান ও পরিমান দেয়া হল-
কোয়েলের স্টার্টার খাদ্য (১০০ কেজি)
গম ভাঙ্গা
৫০ কেজি
চাউলের মিহি গুড়া
০৬ কেজি
তিলের খৈল
২৩ কেজি
শুটকি মাছের গুড়া
১৮ কেজি
ঝিনুকের গুড়া / ডিসিপি
.৪ কেজি
লবন
৩০০ গ্রাম
ভিটামিন ও মিনারেল প্রিমিক্স
৩০০ গ্রাম

কোয়েলের গ্রোয়ার খাদ্য (১০০ কেজি)
গম ভাঙ্গা/ভুট্টা ভাঙ্গা
৫০ কেজি
চাউলের মিহি গুড়া
০৮ কেজি
তিলের খৈল
২৩ কেজি
শুটকি মাছের গুড়া
১৫ কেজি
ঝিনুকের গুড়া / ডিসিপি
.৪ কেজি
লবন
৩০০ গ্রাম
ভিটামিন ও মিনারেল প্রিমিক্স
৩০০ গ্রাম



কোয়েলের লেয়ার খাদ্য (১০০ কেজি)
গম ভাঙ্গা /ভুট্টা ভাঙ্গা
৫০ কেজি
চাউলের মিহি গুড়া
০৯ কেজি
তিলের খৈল
২৩ কেজি
শুটকি মাছের গুড়া
১২ কেজি
ঝিনুকের গুড়া / ডিসিপি
.৩ কেজি
লবন
৪০০ গ্রাম
ভিটামিন ও মিনারেল প্রিমিক্স
৩০০ গ্রাম

কোয়েলের ডিম ও মাংসের উপকারিতা
পৃথিবীতে যত প্রকার খাবার উপযোগী ডিম ও মাংস আছে তার মধ্যে কোয়েল পাখির ডিম ও মাংস গুনে মানেপুষ্টিতে এবং স্বাদে সর্বশ্রেষ্ঠ। একটি নির্দিষ্ট বয়সের পর নিয়মিত মুরগীর ডিম এবং বিভিন্ন মাংস খেলে কোলেস্টেরল বেড়ে হৃদ রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। 
অথচ কোয়েলের ডিম এবং মাংস নিসংকোচে যে কোনো বয়সের মানুষ বাচ্চা থেকে বৃদ্ধরা খেতে পারে। এতে ক্ষতির কোনো কারণ নেই বরং নিয়মিত কোয়েলের ডিম ও মাংস গ্রহণ করলে অনেক কঠিন রোগ থেকে আরোগ্য লাভ হতে পারে। বিভিন্ন দেশে কোয়েল পাখি নিয়ে অনেক গবেষণা হয়েছে এবং সব জায়গা থেকে গবেষকরা কোয়েলের ডিম ও মাংস নিশ্চিন্তে খাওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন

কি আছে কোয়েলের ডিম ও মাংসে?
  • কোয়েল ডিম এর মধ্যে প্রোটিন, ভিটামিন, মিনারেল, এনজাইম এবং এমাইনো এসিড এমনভাবে বিন্যাসিত যে, এই ডিম খেলে শরীরে সব ধরণের পুষ্টির অভাব পুরণ করে শরীরের কার্যক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়।
  • মুরগীর ডিমের সঙ্গে তুলনা করে দেখা গেছে কোয়েল ডিমে কোলেস্টেরেল যেখানে ১.%সেখানে মুরগীর ডিমে ৪%এছাড়া কুসুমে প্রোটিনের পরিমান মুরগীর থেকে প্রায় শতকরা ৭ ভাগ বেশী।
  • কোয়েল ডিমে ভিটামিন বি-১ এর পরিমান মুরগীর ডিম থেকে ছয়গুণ বেশী। ফসফরাস পাঁচ গুণ বেশী। আয়রন পাঁচ গুণ বেশী। ভিটামিন বি-২ পনেরো গুণ বেশী।
    স্বাদের বিচারে ব্রয়লার মুরগীর মাংসের তুলনায় কোয়েলের মাংস বেশ মুখরোচক এবং দামের বিচারেও ১টি মুরগীর ডিমের দামে প্রায় ৪টি কোয়েলের ডিম পাওয়া যায়।
    নিয়মিত সকালের খাদ্য তালিকায় ৪/৫টা কোয়েল ডিম এবং সপ্তাহে অন্তত একবার কোয়েলের মাংস খেলে যে উপকার হয়-
  • কিডনীলিভার এবং হ্রদপিন্ডের কার্যক্ষমতা উন্নত করে।
  • হজম শক্তি বাড়াতে এবং এসিডিটি কমাতে সাহায্য করে।
    বাচ্চাদের মানসিক, শারীরিক এবং বুদ্ধিমর্ত্তার বিকাশে সহায়ক।
  • সব বয়সের লোকদের পূর্ণজ্জীবিত এবং কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
  • যৌন ক্ষমতা তথা শারিরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
  • কোয়েলের ডিম ও মাংস ডায়বেটিক রোগীরা নিশ্চিন্তে খেতে পারেন।
  • কোয়েলের ডিম ও মাংস বেশ সস্তা।

(তথ্যসূত্রঃ এই অংশটুকু ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত।)

কোয়েল পালন সম্পর্কিতপ্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্নঃ  কোয়েল কত দিনে ডিম দেয় ? উত্তরঃ  কোয়েল পাখি সাধারনত ৪৫ দিন বয়স থেকে ডিম দিতে শুরু করে । তবে বাস্তবে প্রায় ৫৫ - ৬০ দিন সময় লেগে ...