Sunday, January 27, 2019

নর ও মাদি কবুতর চিনার উপায়

আমার এক পরিচিত আমাকে একদিন জানালেন যে তার একজোড়া কবুতর ৪ টা ডিম দিয়েছে এবং তিনি নিশ্চিত করে বললেন যে এটা নর আর মাদি, আমি তাকে বুঝানোর পরও তিনি তর্ক করলেন, আমি আর কিছু বললাম না, কিছুদিন পর তিনি বুঝতে পারলেন যে আসলে দুটাই মাদি। আসলে এটা উনার কোন দোষ নাই। আবার অনেক ক্ষেত্রে যখন বেশি মারামারি করে তখন বুঝা যায় যে দুটি নর। কারন, অনেক ক্ষেত্রেই এই ধরনের অভিজ্ঞতা হয়। সৌখিন কবুতরের ক্ষেত্রে এটা খুবই কঠিন, নর ও মাদি আলাদা করা এবং অনেক অভিজ্ঞ সদস্যদের ও অনেক সময় বোকা হয়ে যান আর এটা সবসময় সহজ নয়। আর সেটা যদি বাচ্চা হয় তাহলে তো কথাই নাই, কাজটি তখন কঠিনতর হয়ে যায়। আজপর্যন্ত যদিও এ ব্যাপারে কোন সঠিক দিক নির্দেশনা দেওয়া হয়নি, ফলে অনেক কিছুই প্রায়ই অজানাই রয়ে গেছে। অনেক সময় দুইটা মাদি ঠিক নর মাদির মতই বৈশিষ্ট্য স্বভাব দেখা গেলেও অনেক পরে বুঝা যায় যে আসলে দুটাই মাদি, কিন্তু এর মাঝে অনেক মূল্যবান সময় পার হয়ে যায়। আসুন আজ আমি আপনাদের জন্য কিছু তথ্য দিয়ে সাহায্য কারী হতে পারি কি না ?
পুরুষ ও মেয়ে কবুতরের কিছু শারীরিক ও স্বভাবগত কিছু বৈশিষ্ট্যও পার্থক্য আছে সেগুলো হলঃ
ক) শারীরিক বৈশিষ্ট্যঃ
============
১) অধিকাংশ ক্ষেত্রে পুরুষ কবুতর আকারে বড় হয় বিশেষ করে তার মাথাও চ্যাপ্টা হয়।
মেয়ে কবুতরের শরীর তুলনা মূলক ছোট, বিশেষ করে তার মাথা ছোট ও লম্বা হয়।
২) চোখ একটি মুরগির হিসাবে বৃত্তাকার হয়না কিন্তু মেয়ে কবুতরের বৃত্তাকার হয়।
৩) পুরুষ কবুতরের পা এর আঙ্গুল সমান ও মসৃণ হয় না, কিন্তু মেয়ে কবুতরের পা এর আঙ্গুল প্রায় সমান ও মসৃণ হয়।
৪) উভয় হাতে কবুতর ধরুন (মধ্য লাইন থেকে বুক বরারর নিচে হাত চালায় তাহলে হাড় শেষে একটি স্পেস আছে, তারপর বরাবর একটি আঙ্গুল দিয়ে দেখলে 2 ছোট পাতলা হাড় পাবেন “v” এর মত, তারা একসঙ্গে আসা যেখানে মধ্যে একটি ছোট আঙুল বা তার বেশি ফিট করতে পারে, তাহলে এটি মেয়ে কবুতর যেখানে ডিম পাস হয়। আর যদি ১বা -২মিলি ফাক থাকে তাহলে পুরুষ কবুতর। অনেকে পুরুষ বা মাদি পরীক্ষা করার জন্য আঙ্গুল পায়খানার পথে দেন, কিন্তু বিশেষভাবে খেয়েল রাখবেন কখনও এটা করবেন না। এতে জরায়ু বা ভিতরে সংক্রমণ হবার সম্ভাবনা বেশি থাকে।)
৫) পুরুষ কবুতরের মাথা / ঘার ও দেহ একটু মোটা একটু লম্বা, ঘন ও সবল হয়। আর সাধারণত মাদীর মাথা / ঘার ও দেহ কাছাকাছি আরো মেয়েলি বা সূক্ষ্ম হয়।
৬) হ্যাচিং পরে ১ থেকে ৩ দিন পর যদি আপনি বাচ্চাকে অধিষ্ঠিত করে এর পায়খানা নির্গমনের (vent hole) পথের দিকে খেয়াল করেন তাহলে পুরুষ কবুতরের একটু চ্যাপ্টা বা smile এর মত দেখবেন আর মেয়ে কবুতরের সোজা বা গোল দেখবেন।
৭) পুরুষ কবুতরের গলার রগ মোটা হয় আর মেয়ে কবুতরের তুলনা মূলকভাবে একটু পাতলা।
৮) পুরুষ কবুতরের ঠোঁট ধরে হালকা করে টান দিলে সে ছাড়িয়ে নেবার চেষ্টা করে, আর মেয়ে কবুতর সাধারণত চুপ করে থাকে বা কোন চেষ্টা করে না।
খ) স্বভাবগত বৈশিষ্ট্যঃ
============
৯) পুরুষ কবুতরের লেগ ও শরীর ময়লা থাকে কিন্তু মেয়ে কবুতরের শরীর তুলনা মূলক পরিষ্কার থাকে। পুরুষ কবুতরের ডাক খুব ঘন ও জোরে হয়, অপর দিকে মেয়ে কবুতরের ডাক থেমেথেমে ও আস্তে ডাকে।
১০) পুরুষ কবুতর হুমকি দিয়ে বা ভয় দেখিয়ে একটি প্রয়াস চালানোর চেষ্টা করে বা মাদীকে চার্জ করবে বা সাধারণত তার মনোযোগ পেতে হালকা ঠোকর চেহারা নেয় এবং আঘাত করে যদিও এটি ইচ্ছাকৃত ঠোকর নয়। পুরুষ কবুতর গলা ফুলীয়ে এক জায়গা থেকে লেগ নামিয়ে মাদিকে আক্রমন করে আর মাদি মাথা নাড়িয়ে মাথা উপর নিচ করে এক জায়গায় থাকে।
১১) পুরুষ কবুতর পুরো ঠোঁট ডুবিয়েপানি পান করে, যেখানে মাদি কবুতর অল্প বা অর্ধেক ঠোঁট ডুবিয়ে পানি পান করে।
১২) পুরুষ কবুতর মেয়ে কবুতরের থেকে বেশি আক্রমনাত্মক হয়। যদিও অনেক ক্ষেত্রে এর ব্যাতিক্রম দেখা যায়। যদি ও ডাকের কম্পন দুই জনের সমান হয় না।
১৩) পুরুষ কবুতর সূর্য ডুবার আগে বেশি অস্থির থাকে বিশেষ করে, আর মাদি কবুতর শান্ত থাকে।
১৪) পুরুষ কবুতর কবুতর সূর্য উঠার পর অবস্থান নেয়,আর মাদি সারারাত বাসায় বসে থাকে।
১৫) ব্রিডিং এর আগে নর কবুতর মাদির পায়ের কাছে বসে এক ধরনের শব্দ করে, যদি ও এসব গৌণ বৈশিষ্ট্য এর মধ্যে পড়ে।
১৬) মাদি কবুতর নর কবুতরের মুখে ঘাড়ে ও গলায় ঠোঁট দিয়ে গ্রুমিং করে দেয়। আর মেটিং এর আগে ঠোঁট দিয়ে খাইয়ে দেয়।
আশাকরি এর মাধ্যমে অনেকের অনেক দ্বিধাদ্বন্দ্ব দূরহবে ও অনেক অনাকাঙ্কিত পরিস্থিতি থেকে বাঁচা যাবে।

কবুতরের /পাখির পেটে ডিম আটকে যাওয়া (Egg binding)

ডিম আটকানো বা পাখির পেটে ডিম আটকে যাওয়া (Egg binding ) মেয়ে কবুতরের/পাখির অন্যতম সমস্যা। ডিম পাড়ার সময় এটি cloaca কাছাকাছি এসে অথবা আরও ভিতরে অতিক্রম না করতে পেরে প্রজনন নালির মধ্যে এসে আটকে থাকতে পারে। এটি একটি সাধারণ এবং সম্ভাব্য গুরুতর অবস্থার নির্দেশ করে। ডিমের আটকানো (Egg binding ) সাধারণত তরুণ মেয়ে পাখির হয় বেশি। যদিও ক্রনিক ডিম পাড়ার এই অগণ্য স্বাস্থ্য সমস্যা ফলে ক্যালসিয়াম ঘাটতি ও পুষ্টির ফলে হয়, যা hypocalcaemia হিসাবে পরিচিত। এর ফলে জরায়ুর পেশীগুলো দুর্বল হয়ে যায়, যে কারনে জরায়ুর ভিতর ডিম ধাক্কা দিতে অক্ষম হয়। অত্যধিক ডিম পাড়ার কারনেও এটা হতে পারে।

ডিমের আটকানোর (Egg binding ) কারনে যেসব লক্ষণ ও উপসর্গ প্রদর্শিত হতে পারে মধ্যে নীচে কয়েকটি তালিকা দেওয়া হল:
• উদর জোরে টানাটানি।
• দ্রুত বা জড়তা পূর্ণশ্বাস বা শ্বাস সমস্যা।
• পিছনে ফোলা ভাব।
• কোষ্ঠকাঠিন্য ভাব।
• উইংস ঝুঁকিয়া পড়া।
• পালকে তালগোল পাকান।
• প্রশস্ত ভঙ্গিমা।
• ফোলান তলপেট।
• নৈমিত্তিক আকস্মিক মৃত্যু।
• পুচ্ছ/লেজ নড়ান বা নামিয়ে রাখা।
• ডিপ্রেশন.
• খাঁচার মেঝেতেব সা।
• পা অবস বা পক্ষাঘাত। (যদিও অন্য কারনেও পা অবস বা পক্ষাঘাত হতে পারে।)
কারণ:
১) কম ক্যালসিয়াম স্তর বা Hypocalcaemia সিন্ড্রোম।
২) অপুষ্টি।
৩) ছোট খাঁচা বা বেশি ডিমে তা বা ডিম পাড়া অথবা বেশি বাচ্চা পালন।
৪) অসুস্থ এবং বৃদ্ধ পাখি।
৫) সঙ্গি বিহীন একাপাখি।
৬) বড় আকার ডিম।
৭) বিশেষ কিছু রোগের সংক্রমণ।
৮) অন্য কবুতর দ্বারা বিরক্ত থেকে।
৯) জরায়ুর সংক্রমণ।
১০) জরায়ুর টিউমার।
প্রতিরোধ:
ক) ভবিষ্যতে স্বাভাবিক ডিমপাড়ার ব্যাবস্থা জোরদার এবং ডিমের আটকানো (Egg binding ) প্রতিরোধে উচ্চ ক্যালোরি, উচ্চ ক্যালসিয়াম যুক্ত খাবার প্রদান করতে হবে।
খ) ঘনঘন ডিমপাড়ার থেকে আপনারপাখিকে নিরুত্সাহিত / বন্ধ করতে পারেন।
গ) সম্ভবপাখির সাইট অপসারণ নীড় তৈরি উপাদান
ঘ) loft এলাকায় উজ্জ্বল আলো ব্যবহার করবেন না।(বিশেষ করে ডিমপাড়া ও তা দেবার সময়।)
ঙ) বর্ণালী আলো প্রদান।
চ) আপনারপাখির মধ্যে প্রজনন আচরণ নিরুত্সাহিত করা। প্রয়োজন হলে “সঙ্গী” থেকে পৃথক করা।
ছ) খাঁচার অভ্যন্তর পুনরায় সজ্জিত এবং খাঁচা অবস্থানপরিবর্তনকরা।
জ) ব্রিডিং জোড়াকে নিয়মিত ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স দিতে হবে। বিশেষ করে ডিমপাড়ার সম্ভাবনার সময়।
সতর্কতা:
নিজের আঙ্গুল বা চাপ দিয়ে ডিম বের করার চেষ্টা করবেন না, এটা আপনার পায়রার গুরুতর বা স্থায়ী স্বাস্থ্য সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। নালীর ভিতর সম্ভাব্য অভ্যন্তরীণ টিস্যুর সংক্রমণ বা ক্ষতি হতে পারে। বা ভিতরে ডিম ভেঙ্গে স্থায়ী সংক্রমণ হতে পারে। যা তৎক্ষণাৎ চিকিত্সা না করে ছেড়ে যাওয়া হলে – মৃত্যুও হতেপারে।
চিকিত্সা:
• হোমিও Pulsatilla mother, ৩ ফোটা অল্প একটুপানির সাথে ২ ঘণ্টা পরপর দিতে হবে।
• মেয়ে কবুতর কে হালকা একটু (পরিশ্রান্ত) করার ব্যাবস্থা করতে হবে।
• সন্দেহ ভাজন ডিমের আটকানোর (Egg binding )ক্ষেত্রে মেয়ে পাখিকে একটি উষ্ণ এলাকায় রাখুন এবং প্রয়োজনীয় সহায়ক যত্ন প্রদান করুন।
• বাথরুম এর ভিতর বা কোন রুমে একটি বাষ্পীয় রুম এর মত ব্যাবস্থা করতে হবে এবং তার মধ্যেপাখি রাখুন, 85-90 ডিগ্রী ফারেনহাইট / আর্দ্রতা: 60% তাপমাত্রা ভাল, অথবা গরম পানিতে ভিজান গামছা/তোয়ালে দিয়ে একটু সেঁকের মত ব্যাবস্থা করুন।
• উষ্ণ জলস্নান করানোর ব্যাবস্থা করতে হবে।
• তেল দিয়ে পেছনের এলাকায় পেশী ম্যাসেজ করতে হবে, মেসেজিং করার সময় খুব সাবধান কারন, জোরে হলে ডিম ভিতরে ভাঙ্গা হতে পারে যা জীবন নাশক হতে পারে।
• পেছনে পিচ্ছিল কারক পদার্থ হালকা করে দেয়া যেতে পারে এটি ভাল সহায়ক হতে পারে।
• ডিমের সফল পাসিং এর জন্য স্যালাইনে পানি খাওয়ানোর বাবস্থা করতে হবে এবং অন্য কবুতর থেকে আলাদা করতে হবে ও শান্ত রাখতে হবে।
সাধারণত ১ ও ২ নং চিকিৎসাতেই এ থেকে পরিত্রান পওয়া যায়। তারপর একটু বেশি সতর্কতা হিসাবে একটু বিশেষ যত্ন নিলে অনেক অনাখাংকিত পরিস্থিতি থেকে বাচা যাবে। উপররোক্ত সব ব্যাবস্থা একসঙ্গে নেয়ার দরকার নাই, যে কোনো দু একটা করলেই হয়।
(আপনি বা আপনারপাখি অন্য কোন অস্বাভাবিকতা পরিলক্ষিত হলে, একটি যোগ্যতা সম্পন্ন পশু চিকিত্সকের সাথে যোগাযোগ করুন। একজন পশু চিকিত্সক সঠিকভাবে আপনার পোষা জন্তুর এই সমস্যা নির্ণয় করতে পারবেন, এবং একটি দ্রুত পুনরুদ্ধারের রাস্তা বলে দিবে ন। বিভিন্ন জনের বিভিন্ন কথাশুনে আপনার কবুতরের প্রাণ নাশের কারন হবেন না, কথাটা দয়া করে একটু মনে রাখবেন।)

কবুতরের ছত্রাক সংক্রমণ

কবুতর এমন একটি প্রানী যা, যে কোন পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়াতে পারে। আর তারা সহজেই পরিবেশের উপাদান দ্বারা প্রভাবিত হয়। পায়রার রোগ সাধারণত অপর্যাপ্ত যত্নের ফলে হয়। আর বিভিন্ন অবস্থা ও পরিস্থিতির উপরও রোগের ধরন নির্ভর করে।
ব্যাকটেরিয়াল রোগ বেশিরভাগ সংক্রামিত খাদ্য খাওয়ার মাধ্যমে অথবা কাঁটা, ফোটা, কামড়ানো, ক্ষত বা শ্বাস গ্রহণ খাওয়ার দ্বারা সংঘটিত হয়।
ভাইরাল রোগ সংক্রামিত হয় পানীয় জল থেকে বা একটি অসুস্থ পাখি থেকে হাঁচি কাশির মাধ্যমে বা অন্যান্য বায়ু বাহিত যোগাযোগ এর মাধ্যমে।

ফাংগাল রোগ বায়ু, জল অথবা পরিচিতি আগন্তক এর জুতোর ধুলা ইত্যাদির মাধ্যমে হয়।
Protozon (এককোষী প্রাণি) প্রায়ই মূল পাখি দ্বারা বাহিত হয় এবং এর মুখ দিয়ে তাদের অল্পবয়স্ক বাচ্চাদের খাওয়ানোর ফলে সংক্রমণ হয়।
পরজীবী কিছু পর্যায় অন্য পাখির সাথে যোগাযোগ হলে পরজীবীয় রোগ হয়। পাখি কৃমি পাকস্থলিতে গ্রহণ করে বিভিন্ন খাবারপানি ইত্যাদির মাধ্যমে।
কিছু কিছু রোগের কারণ ভিটামিন বা খনিজ এর অভাব , পায়রার বিরক্তি কিংবা পায়রার রোগের আধিক্য ইত্যাদি থেকে হয়। সাধারণ বেশী কিছু রোগ গ্রুপ অনুযায়ী এখানে উল্লেখ করা হয়েছে।. বিস্তারিত বিবরণের জন্য নিম্নলিখিত অ্যাকাউন্ট পড়ুনঃ
ক) ব্যাকটেরিয়া (Streptococcosis) ফ্যাক্টর রোগ:
১) সাধারন ঠাণ্ডা( Common colds)
২) ই-কলি (E Coli)
৩) কলেরা (Pasteurellosis)
৪) যক্ষ্মা (TB)
৫) সালমোনেলা (Parathyphoid)
৭) ডিম আটকানো(Egg Binding)
৮) সাধারন ম্যালেরিয়া
৯) নিউমোনিয়া
১০) শ্বাস প্রশ্বাসের সংক্রমণ (Roup)।
১১) রক্তমাশয় (Coccidiosis)
1২) বসন্ত (Pox)
খ) দীর্ঘস্থায়ী শ্বাস প্রশ্বাসের নালীর রোগ (Chronic Respiratory Dieases)
১) তীব্র সর্দি (Coryza)
২) একচোখ ঠাণ্ডা (Ornithosiss)
৩) ক্রনিক সর্দি (Mycoplasmosis)
৪) ইনফ্লুয়েঞ্জা (Haemophilus) ।
গ) ভাইরাস ফ্যাক্টর রোগ:
১) রানীক্ষেত{Paramyxovirosis (PMV1)/PMV}
২) এডিনো ভাইরাস (Young Bird Diseases)
ঘা) ফাংগাল রোগ (ছত্রাক):
১)সিরকো ভাইরাস(Circovirus)
২) এলার্জি (aspergillosis)
৩) গলায় সংক্রমণ {Cadidiasis (Maw)}
Protozon(এককোষী প্রাণি) ফ্যাক্টররোগ:
1) ক্যাংকার (Cankar/ Trichomonas)
2) কবুতর ম্যালেরিয়া (Haemoproteosis Plasmodiosis)
3) Hexamitiasis
পরজীবীয়(parasitic)রোগ:
ক) বাহ্যিক পরজীবী রোগঃ
১) লাল Mite
২) ছোট উকুন
খ) অভ্যন্তরীণ পরজীবী রোগঃ
১) গোলকৃমি (Roundworms) ২) ফিতাকৃমি (Tapeworms)।
এখানে এই রোগের গ্রুপ অনুযায়ী আলোচনা করার উদ্দেশ্য হল আপনার কবুতরের রোগ সম্বন্ধে জানা ও সেই অনুযায়ী আপনিকি ধরনের ঔষধ প্রয়োগ করবেন তা নির্ধারণ করা।
আশাকরি এই পোস্ট থেকে সকলে উপকৃত হবেন।

কবুতর এর কিছু উপকারি ও প্রতিষেধক ঔষধ

বেশ কিছুদিন আগে কবুতর নিয়ে একটা চক্র নানা ধরনের অসাধু ও মনোপলি ব্যাবসা করছিল, মানুষ যখন একটু সচেতন হল। তখন আবার কবুতরের সেই চক্রটা আবার সক্রিয় হয়েছে নানা ধরনের ভুল চিকিৎসা, আর এটা করা হচ্ছে এই কারনে যাতে,খামারিরা এই চিকিৎসা করবে !!  কবুতর মরবে !! আর তাদের ব্যাবসা আবার চাঙ্গা হবে ?? !! আর এটাই যদি হয় তাহলে আমাদের জন্য এটা অশনি সংকেত। এটা আমাদের কে বুঝতে হবে। আজকাল যে যেমন পারছেন তেমন ভাবে চিকিৎসা দেবার চেষ্টা করছেন,  কেন ??? আমাকে একজন জানালেন যে তিনি মানুষের ক্রিমির ঔষধ দিচ্ছেন, জিজ্ঞাস করলাম কেন এটা করছেন? তিনি জানালেন যে, তিনি একজন বিশেষজ্ঞের কথা মত এটা করছেন। আসলেই কি তিনি বিশেষজ্ঞ নাকি বিশেষ ভাবে অজ্ঞ ? কবুতর কে মোটা করার জন্য কেউ কেউ আবার ইঞ্জেকশন দিচ্ছেন, কেউ আবার মোটা করার ভিটামিন ব্যাবহার করছেন। কিন্তু এটা সেই সব ব্যাবসায়িরা করছেন, যাদের কাছে কবুতর একটা পণ্য ছাড়া আর কিছু না। যাই হোক আল্লাহ্‌ তাদের সুবুদ্ধি দান করুন এই দোয়া করা ছাড়া আর কিছুই করার নাই আমাদের এই মুহূর্তে। আর সব খামারিদের হাত জোর করে বলব একটু সাবধান হন। আসুন এখন আমার কবুতরের কিছু রোগের প্রতিষেধক ও প্রতিকার নিয়ে একটু জেনে নেইঃ

পক্সঃ
পক্স এর মুল শত্রু হল মশা। যদি মশা প্রতিরোধ করতে না পারেন তাহলে যে শুধু পক্স হবে তাই না,ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গুর ইত্যাদির মত রোগও হতে পারে। তারপর অনেক সময় মশা নিয়ন্ত্রন সম্ভব হয় না। সেক্ষেত্রে হোমিও Malandrinum 30 (Original Germany) ১ সিসি ১ লিটার পানিতে মিক্স করে মাসে ২/৩ দিন দিলে ভাল ফল হয়। তবে খেয়াল রাখবেন। আপনি যদি এই ঔষধ প্রয়োগের পর মশা নিয়ন্ত্রণ এর চেষ্টা না করেন তাহলে, আপনার অন্য চেষ্টাই  ব্যার্থ হয়ে যাবে।
দুর্বলঃ
ভ্রমন বা অসুস্থ/দুর্বলতা বা জাইগা পরিবর্তন বা কোন কারনে ভয় বা হার্ট দুর্বলতার হোমিও Kali Phos 30 (Original Germany) কুসুম কুসুম গরম পানির সাথে ১/২ বড়ি একজনের জন্য আর ২-৩ বড়ি ১ লিটার পানিতে ২-৩ দিন।
অরুচিঃ
অনেক সময় রোগ থেকে সুস্থ হবার পর বা বিভিন্ন কারণে, কবুতরের অরুচিও হতে পারে। সে ক্ষেত্রে হোমিও Gentina Lutea 30 (Original Germany) ১ কবুতর কে ৩ ফোটা ২-৩ দিন দিনে ২ বার। আর গন ক্ষেত্রে ১ সিসি ১ লিটার  পানিতে। তবে খেয়াল রাখতে হবে। যে অনেক সময় ক্রিমি,বা লিভার এর সমস্যার কারনে অরুচি হয়। আর কবুতরের বেশিরভাগ রোগ দেখা যায় এই লিভার জনিত সমস্যার কারনে। হারবাল আমলকী বা আমলকীর রস পানির সাথে মিক্স করে দিলেও ভালো উপকার পাওয়া যায়।
রক্ত পরিস্কারঃ
অনেক সময় দীর্ঘ দিন যাবত ঘা শুকায় না বা পুঁজ জমে যায় ব আর কারনে রক্ত দুষিত হলে হোমিও Arsenic Alb 30 (Original Germany) ১ কবুতর কে ৩ ফোটা ২-৩ দিন দিনে ২ বার। আর গন ক্ষেত্রে ১ সিসি ১ লিটার পানিতে। তবে নিয়মিত ক্ষত পরিষ্কার করতে হবে যাতে সেরে যায়।
জ্বরঃ
সেপটিক জ্বর বা টায়ফয়েড ইত্যাদিতে হোমিও Achenacea Angu 30 (Original Germany) ২/৩ দিন দিনে ৩ বার ১-২ ফোটা করে দিবেন।
ছানিঃ
একচোখে ঠাণ্ডা বা করিযা থেকে চোখে ছানি পরলে হোমিও Cunium 200 (Original Germany) ১-২ ফোটা করে দিনে ২ বার ৩-৪ দিন।
আঘাতঃ
কাটা, ছিড়া বা আঘাত জনিত কারনে জ্বর আসলে হোমিও Beledona 30 (Original Germany) ১-২ ফোটা করে দিনে ৪-৫ বার ২-৩ দিন।
ধনুষ্টংকারঃ
কাটা,ছেড়া বা ঠাণ্ডা জনিত কারণে, কবুতরের বাচ্চার নাভির সংক্রমণ বা ধনুষ্টংকার থেকে বাঁচাতে হোমিও Hypericum 200 30 (Original Germany) ১-২ ফোটা করে দিনে ৩ বার ২-৩ দিন।
ডিমের ভিতর বাচ্চা মারা যাওয়াঃ  
ভিটামিন K ডিমের ভিতর বাচ্চা মারা যাওয়া বা Coccidaiocis বা রক্ত আমাশয় ইত্যাদি প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখে।
এছাড়াও লেবুর রস ক্ষত শুকাতে স্ট্রেস দূর করতে ও ঝিমানো ভাব দূর করতে সাহায্য করে। গ্রিট বা অন্য কোন কারনে ভিতরে রক্ত ক্ষরণের বা রক্ত বমি হলে। লাল চা+এলোভেরা মিক্স করে দিবেন রক্ত বন্ধ হয়ে যাবে। (খেয়াল রাখবেন গ্রিট এ অনেকে ঝিনুকের বদলে সামুক ব্যাবহার করে থাকে যা খুবই বিপদজনক কারন এতে কবুতরের গলা ও পাকস্থলি কেটে যাবার ভয় থাকে। আর গ্রিট সব সময় রাখবেন না খাঁচায়। গ্রিট দেবার নিয়ম ১/২ দিন পর পর।তবে যে সব কবুতরের বাচ্চা আছে তাদের জন্য সব সময় রাখায় ভাল।
কিছু ঔষধ আছে যেগুলো ব্যাবহার না করাই ভাল এতে কবুতরের প্রজনন ও ডিম দিবার ক্ষমতা কমে যায়। যেমনঃ সিপ্রসিন,রেনাম্যসিন ইত্যাদি। একটা ব্যাপার খেয়াল রাখতে হবে হারবাল ও হোমিও সব সময় প্রাথমিক ও প্রতিরোধ মূলক চিকিৎসার জন্য অধিক ক্ষেত্রে অবশ্যই অ্যান্টিবায়টিক ব্যাবহার করাই ভাল। তবে সেটা মধ্যম সারির অ্যান্টিবায়টিক হতে হবে। আর এর সাথে স্যালাইন মিক্স করে দেওয়াটাই উত্তম এতে পানিশূন্যতা হবার ভয় থাকে কম। রোগের ক্ষেত্রে তরল খাবার দিবেন যেমনঃ গ্লূকোসের সাথে আটা গুলে দিতে পারেন বা সাবু বার্লি ইত্যাদি। অনেকে ব্রয়লার গ্রোয়ার ব্যাবহার করে, এটা ঠিক না…এতে কবুতরের হজমের সমস্যা হতে পারে।

সপ্তাহে অন্তত একদিন, আপনার পাখিকে রসুন খেতে দিন

খাওয়ানোর নিয়মঃ কাঁচা অথবা রসুনের রস (দুই চা চামচ পরিমান) এক লিটার পানিতে মিশিয়ে খেতে দিন সপ্তাহে অন্তত ১ দিন । (রসুনের রস মিশ্রিত পানি ২-৩ঘন্টার বেশি খাঁচায় রাখা যাবেনা) ।রসুন মিশ্রিত পানির বাটি খুব ভালো করে ধুয়ে নিবেন পরবর্তী বার ব্যবহারের জন্য । ধন্যবাদ ।
Nutritional value per 100 g (3.5 oz)
*Energy 623 kJ (149 kcal)
*Carbohydrates 33.06 g
Sugars 1 g
Dietary fiber 2.1 g
*Fat 0.5 g
*Protein 6.36 g
*Vitamins
Thiamine (B1) (17%) 0.2 mg
Riboflavin (B2) (9%)0.11 mg
Niacin (B3) (5%) 0.7 mg
Pantothenic acid (B5) (12%) 0.596 mg
Vitamin B6 (95%)1.235 mg
Folate (B9) (1%)3 μg
Vitamin C (38%)31.2 mg
*Trace metals
Calcium (18%)181 mg
Iron (13%)1.7 mg
Magnesium (7%)25 mg
Manganese (80%)1.672 mg
Phosphorus (22%)153 mg
Potassium (9%)401 mg
Sodium (1%)17 mg
Zinc (12%)1.16 mg
রসুনের উপকারিতা
১। শ্বাসনালী ও বুকের জীবানুকে ধংস করে ।
২। এন্টিবায়োটিক ঔষধের মতো শরীরের ভেতর এন্টিবডিজকে নষ্ট করে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে কমিয়ে দেয় না ।
৩। শরীরে আক্রমনকারী জীবানুর সঙ্গে লড়াই করার ক্ষমতাকে বাড়িয়ে দেয় ।
৪। ক্রিমির প্রতিরোধে ।
৫। পাচন ক্রিয়াকে সুস্থ – সবল রাখে ।
৬। পাকস্থলি ও অন্ত্রের কাজে টনিকের কাজ করে ।
৭। রসুনের রস মিশ্রিত পানি স্প্রে করলে উকুন জাতীয় পরজীবির হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায় ।
৮। হৃদযন্ত্র ও লিভারের উপকার করে ।
৯। কেটে গেলে জ্বালা-পোড়া কমাতে ।
৯। সর্দি-কাশির জন্য উপকারী ।
১০। উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রন ।
১১। ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসজনিত রোগের ঝুঁকি কমে যায়
১২। রক্তে কোলেস্টেরল স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হলে ।
১৩। রক্তে সুগারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে রক্ত সঞ্চালন প্রক্রিয়া ঠিক রাখে।
১৪। ইনফেকশন ও ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধী ।

শীতকাল আসছে!! সঠিকভাবে পাখির যত্ন নিচ্ছেন তো? অনেকেই পাখি নিয়ে

দুশ্চিন্তায় আছেন যে শীতকালে পাখিদের কিভাবে যত্ন নিবে। অতিরিক্ত কি করতে হবে যা থেকে পাখিদের সুস্থ রাখা যায়।
গত শীতে আমার কোন পাখি মারা যায় নাই। কিছু পাখি সামান্য অসুস্থ হয়েছিল সেটা তাপমাত্রা বাড়ার সাথে সাথে ঠিক হয়ে গেছে। তাহলে আমি কিভাবে আমার পাখিদের সুস্থ রেখেছি?
আমরা যে পাখি পালি এরা কিন্তু বনে ও বাস করে। বন্য পাখি গুলো শীতকালে কিভাবে বেচে থাকে? তাদের তো কোন সাপ্লিমেন্ট খাওয়ানো হয়না, সেটা নিয়ে আগে একটু চিন্তা করা যাক।
যখন তাপমাত্রা স্বাভাবিক এর চেয়ে ৪-৬ ডিগ্রী সেলসিয়াস পর্যন্ত নিচে নেমে যায় এটা খুব সহজেই পাখিরা নিজেদের সাথে মানিয়ে নিতে পারে। কিভাবে?
পাখিদের পালক ফুলিয়ে রেখে পালক ফুলিয়ে সেখানে কিছু বাতাস জমিয়ে রাখে যা শরীরের তাপে গরম হয়ে পাখিকে গরম রাখে। এটা দেখে অনেকেই মনে করতে পারেন অসুস্থ পাখি গা ফুলিয়ে রেখেছে। কিন্তু না। শীতকালে তারা চুপচাপ গা ফুলিয়ে বসে থাকে নিজেদের শরীর গরম রাখার জন্য। আবার অসুস্থ হলেও গা ফুলিয়ে রাখে সুতরাং দুপুরের দিকে যখন তাপমাত্রা অপেক্ষাকৃত দিন বা রাতের অন্য সময়ের চেয়ে বেশি থাকে তখন আপনি পাখি গুলো পরীক্ষা করে দেখবেন যে সত্যিই কোন পাখি অসুস্থ কি না।
খাবার দিয়ে পাখিরা খাবার খেয়েও নিজেদের শরীর গরম রাখতে পারে। শীতকালে এরা নিজেদের শরীর এর ফ্যাট কিছুটা বাড়িয়ে নেয় নিজেদের ঠাণ্ডা থেকে দূরে রাখার জন্য। গরম কালে অবশ্য সেটা কমে যায়। সুতরাং আপনাকে পাখিদের এই ব্যপারে সাহায্য করতে হবে। এমন খাবার দিতে হবে যেটা সত্যিই তাদের শরীর গরম রাখতে সাহায্য করে এবং ফ্যাট বাড়াতে। এক্ষেত্রে মধু খুব কাজ করে। আমি আমার পাখিদের খাবার পানিতে মধু মিশিয়ে দেই যখন বেশি ঠাণ্ডা পড়ে তখন মধুর পরিমান বাড়িয়ে দেই কিন্তু শীতকালে বা বেশি ঠাণ্ডা পরলে পাখিরা বেশি পানি খায় না। তো কি করা যায়? সিডমিক্সে গুজিতিল বা যেসব সিড এ ফ্যাট বা তেল এর পরিমান বেশি এর পরিমান বাড়িয়ে দেয়া যেতে পারে। যেসব পাখি এগফুড পছন্দ করে তাদের এগফুড খেতে দিতে পারেন সপ্তাহে ৩/৪ দিন।
একসাথে বসে থেকে শীতকালে বেশ কয়েকটি পাখি একসাথে রাখলে দেখা যাবে তারা পাশাপাশি বসে আছে শরীর লাগিয়ে। এভাবে তারা নিজেদের গরম রাখতে সাহায্য করে। সুতরাং বেশি শীত পড়লে চেস্টা করবেন একটি খাচায় ৪ টি করে পাখি রাখতে অন্তত। বেশি শীতের সময়ে ব্রীড না করানই ভালো।
এছাড়া আরও নানা ভাবে তারা নিজেদের গরম রাখে।
পাখিরা নিজেদের গরম রাখতে পারে আর আমরা সেখানে তাদের সাহায্য করতে পারি প্রয়োজনীয় জিনিস পত্র দিয়ে । যদি কেউ এমন স্থানে পাখি পালেন যেখানে শীতকালে বাইরে থেকে সরাসরি বাতাস এসে লাগে। তাহলে সেই বাতাস আসা বন্ধ করতে হবে। সাধারণত বাতাস এক পাশ থেকে আশে। যদি আপনার পাখির খাচায় বাতাশ লাগার সম্ভাবনা থাকে তাহলে একটি পাতলা প্লাস্টিক এর পর্দা দিয়ে খাচার ওই পাশ ঢেকে ফেলতে পারেন।যদি খাচা এমন স্থানে থাকে যেখানে সহজে ঠাণ্ডা লাগে যেমন বারান্দায় বা জানালার কাছে তাহলে খাচা গুলকে অন্যস্থানে নিয়ে রাখেন সম্ভব হলে যেখানে আবহাওয়া কম ঠাণ্ডা হবে বা তাপমাত্রার পরিবর্তন ধীরে হয়। অনেকেই মোটা কাপর বা কম্বল জাতীয় কিছু ব্যবহার করতে চান করেন। কিন্তু এইরকম কিছু ব্যবহার করলে সমস্যা বারবে। কম্বল বা মোটা কাপড় যখন আমরা শরীর এ রাখি তখন প্রথমে আমাদের শরীর এর তাপ দিয়ে কম্বল গরম হয় তারপর সেই তাপ দিয়েই আমাদের গরম রাখে। কিন্তু পাখির খাচা যদি কম্বল দিয়ে ঢাকেন তাহলে সেই কম্বল কে গরম রাখবে? বরং বাইরের ঠাণ্ডা জমা হবে কম্বলে যা পাখিদের আরও সমস্যায় ফেলবে।
অনেকেই একটা বড় ধরনের ভুল করে থাকেন আর সেটি হচ্ছে এন্টিবায়োটিক ঔষধ এর কোর্স করান! এটা কি ধরনের কথা? এন্টিবায়োটিক ঔষধ হচ্ছে এমন ঔষধ যা কোন রোগ এর মধ্যম বা শেষ পর্যায়ে ব্যবহার করা হয়ে থাকে এমনকি রোগের শুরুতেও না তাহলে কিভাবে আপনি রোগ হয়ার আগে সেই ঔষধ খাওয়াচ্ছেন? এভাবে আন্দাজে ঔষধ খাওয়ানর ফলে পাখি দুর্বল হয়ে যাবে। শীতকালে পাখি দুর্বল হয়ে যাওয়ার মানেই হচ্ছে মৃত্যু অনেক কাছাকাছি পাখিটির। কারন এন্টিবায়োটিক দেয়ার ফলে পাখি যখন দুর্বল হয়ে যাবে তখন স্বাভাবিক ভাবেই সে আর শীতের সাথে যুদ্ধ করতে পারবেনা। আর আপনিও তাকে বেশি সাহায্য করতে পারবেন না। এন্টিবায়োটিক এভাবে রোগ হওয়ার আগে দেয়ার সবচেয়ে মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে ওই ঔষধ আর পরবর্তী সময়ে কাজ না করা। অনেকেই বলেন অসুস্থ পাখিকে ঔষধ দিলেও কাজ হয় না। হবেই তো না কারন ঔষধ এর এন্টিবডি আগেই তৈরি হয়ে গেছে। যারা অসুস্থ হওয়ার আগেই ঔষধ খাওয়াইসেন তাদের পাখি অসুস্থ হলে ঔষধ কাজ করবেনা।  সুতরাং শীত কেন কোন কালেই এমন করা যাবেনা। আর শুধু এন্টিবায়োটিক কেন ইদানিং আমাদের দেশে অনেক ধরনের নতুন এক্সপারট এবং তাদের ঔষধ বের হয়েছে এইসব থেকেই পাখিদের দূরে রাখবেন যেহেতু আপনি নিজেও পাখির ডাক্তার না আর যদি কখনো পাখির ডাক্তারের কাছে না জেয়ে থাকেন তাহলে আপনিও বুঝবেন না যে পাখিদের যা খাওয়াচ্ছেন বা খাওয়াতে বলা হচ্ছে তা কি ঠিক কি না।
কিন্তু পাখি অসুস্থ হয়ে গেলে কি করবেন?পাখি তো যে কোন সময়ই অসুস্থ হয়ে যেতে পারে। শীতকালেও হবে। কিন্তু শীতকালে পাখিরা আগে থেকেই একটু দুর্বল হয়ে যায় সুতরাং রোগ হলেও একটু আলাদা ভাবে পাখির যত্ন নিতে হবে। প্রথমেই কোন পাখি অসুস্থ হয়ে পড়লে বা অসুস্থতার কোন লক্ষন দেখা দিলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আলাদা খাচায় রাখবেন। আর ক্রিত্তিম তাপভাবে তাপ দেয়ার ব্যবস্থা করবেন। কিন্তু কখনই এমন ভাবে তাপ দিবেন না যেন ওই সময়ের স্বাভাবিক তাপমাত্রার চেয়ে ৪-৫ ডিগ্রীর মধ্যেই থাকে। এর চেয়ে বেশি হলে পাখির উপর হটাত তাপমাত্রা পরিবর্তনের প্রভাব পরবে এমনকি পাখি আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়বে। ২০ ওয়াট এর বাল্ব ব্যবহার করতে পারেন দিনের বেলা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পাখিকে তাপ দেয়ার জন্য। আর পাখির খাচায় একটি থার্মোমিটার আধা ঘন্টা রেখে দেখবেন যে তাপমাত্রা কেমন পরিবর্তিত হচ্ছে খাচায়। কারন আমি আগেই বলেছি তাপ বেশি বাড়ানো যাবেনা। যদি ৪/৫ ডিগ্রীর বেশি বেড়ে যায় তাহলে বাল্বটি একটু দূরে সরিয়ে রেখে দিবেন। কাজটি প্রথম বার একটু কঠিন হবে কিন্ত একবার করে ফেলতে পারলে আর ঝামেলা নেই। আচ্ছা দিনের বেলায় বাল্ব জালিয়ে তাপ দিলেন তাহলে রাতের বেলা কিভাবে তাপ দিবেন?
এক্ষেত্রে আপনি বাল্ব ব্যবহার করতে পারেন কিন্তু বাল্বএর আলো বন্ধ রাখতে হবে। কারন পাখিদের ঘুমাতে দিতে হবে। ঠিকমত ঘুমাতে না পারলে সুস্থ পাখিই অসুস্থ হয়ে যাবে আর অসুস্থ পাখির কি হবে আপনি চিন্তা করেন। যদি বাল্ব ব্যবহার করেন রাতের বেলা তাহলে বাল্বটিকে খাচা থেকে দূরে রাখতে হবে আর খাচাটিকে কালো কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে। যেন আলো খাচায় না প্রবেশ করে। ৪০ ওয়াট এর কয়েল দিয়ে ছোট হিটার বানানো যায়। অনেক ইলেক্ট্রিশিয়ান এটা বানাতে পারেন আপনার বাসার আশে পাশে ইলেক্ট্রিশিয়ানদের এই ব্যাপারে কথা বলতে পারেন। যদি এই হিটার ম্যনেজ করতে পারেন তাহলে সবচেয়ে ভালো হয়। যদি অসুস্থতা প্রাথমিক মাত্রার হয়ে থাকে তাহলে কয়েকজন ভেট এর নাম্বার দেয়া আছে গ্রুপ এর আরেকটি ডকুমেন্ট এ তাদের সাথে কল দিয়ে কথা বলতে পারেন। তারা ফ্রী প্রেস্ক্রাইব করবে আপনাকে। কিন্তু অসুস্থতা যদি মারাত্মক হয় তাহলে তাদের কাছে নিয়ে যাবেন যত তাড়াতাড়ি সম্ভব। অনেক আন্দাজে ঔষধ, ভিনেগার তো খাওয়াইসেন পাখিদের। কয়টা পাখিকে বাচাতে পারছেন?
হটাত করে অতিরিক্ত তাপমাত্রা কমে গেলে? 
আমি আগেই বলেছি পাখিরা ৪-৫ ডিগ্রী তাপমাত্রা কমে গেলে নিজেদের সাথে মানিয়ে নিতে পারে কিন্তু হটাত করে এক দিনের মধ্যে জদি ৭-১০ ডিগ্রী তাপমাত্রা কমে যায় তাহলে কি করবেন? মনে করেন হেমন্ত কালে আপনার এভায়েরির তাপমাত্রা থাকে ২৯/৩০ ডিগ্রী সেলসিয়াস। শীতকালে আসবে এবং তাপমাত্রা সময়ের সাথে সাথে কমতে থাকবে। কিন্তু যদি এমন হয় আজকে তাপমাত্রা ২৯ ডিগ্রী সেলসিয়াস সেটা কালকে হয়ে গেল ২১ ডিগ্রী সেলসিয়াস। এত বড় ব্যবধান পাখিরা সহ্য নাও করতে পারে এখানে আপনার সাহায্যের দরকার হবে। দিনের বেলা সব খাচায় ২০/২৫ ওয়াট এর বাল্ব আর রাতে হিটার বা আলো ছাড়া বাল্ব এর ব্যবস্থা করবেন। কয়েকদিন পর অবশ্য বাল্ব সরিয়ে নিবেন। কারন তাদের প্রাকৃতিক ভাবে আবহাওয়ার সাথে খাপ খাইয়ে নেয়ার সুযোগ দিতে হবে।

দিনের বেলা রোদ এর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করবেন। কিন্তু সম্পূর্ণ খাচা রোদে না রেখে একটু রোদ এর বাইরে রাখবেন যেন ওরা চাইলেই রোদ এর বাইরে চলে যেতে পারে।
এখানে শীত থেকে বাচার জন্য যে কাজ গুলো করতে বললাম সব গুলো পরীক্ষিত। ২০১৩ সালের শীতে আমারএকটি পাখিও মারা যায় নাই। আমি আগেও একবার বলেছি। কিন্তু এর আগের শীতগুলোতে অর্থাৎ২০১০-২০১২ প্রত্যেকবার বেশ কয়েকটি করে পাখি মারা যেত কারন আমিও এন্টিবায়োটিক কোর্স করাতাম, সারারাত পাখিদের খাচায় বাল্ব জালিয়ে রাখতাম তারা ঠিকমত ঘুমাতে পারত না, আমি মাল্টিভিটামিন ও খাওয়াতাম কারন আমাকে অনেকেই বলেছিল মাল্টিভিটামিন শরীরে তাপ বাড়াতে সাহায্য করে কিন্তু আসলে এইসবই ভুল প্রমানিত হয়েছে। 

পাখিদের শরীর শীতকালে যেন টিকে থাকতে পারে এমন ভাবেই বানানো হয়েছে। শুধু আপনি একটু সাহায্য করলেই তারা সুস্থ ভাবে বেচে থাকতে পারবে। বন্য পরিবেশে আরও বেশি শীতের সাথে লড়াই করে তারা বেচে থাকে আর এভায়েরিতে তো তেমন শীত থাকেনা যদিও আমাদের পাখি গুলো ও বন্য না। তাই এভায়েরির পাখি গুলোর আমাদের সাহায্য দরকার। আবার অনেকেই বলতে পারেন আমাদের পাখি যেহেতু বন্য না সেহেতু এইভাবে কাজ হবেনা। তাদের বলছি আমাদের পাখি বন্য না তাতে কি হয়েছে তাদের পালক আর জীন কি বনে ফেলে দিয়ে আসছে? নাকি এভায়েরিতে আসার পর তাদের জীন আপনি পরিবর্তন করে দিয়েছেন?
টিপসঃ
আপনি জানেন কি?
ভিটামিন-এ অভাবে পাখির ঠাণ্ডা লাগে ।
তাহলে আপনার পাখিকে ভিটামিন -এ যুক্ত খাবার দিন ,
কি কি খাবারে ভিটামিন – এ আছে?
ব্রকলি ,গাজর ,ডিম ,ভুট্টা …
তাহলে আপনার পাখিকে ঠাণ্ডা থেকে বাঁচাতে ভিটামিন – এ যুক্ত খাবার দিন ।

পাখিকে খাবার পানি দেয়ার নিয়মাবলীঃ


১। পাখিকে অবশ্যই নিরাপদ পানি পান করতে দিবেন। ফুটানো পানিকে  ফিল্টার দ্বারা ছেঁকে নিবেন তারপর তা পাখিকে পান করতে দিবেন।
২। খোলা পাত্রে পানি দিবেন না পানির ফিডারে পানি দিবেন।
৩। প্রতিদিন লবণ মিশ্রিত গরম পানি দিয়ে পানির ফিডার পরিষ্কার করুন।
কেন ওয়াটার ফিডার ব্যাবহার করবেন ?
১। পানির ফিডার ফুড গ্রেড প্ল্যাস্টিক দিয়ে বানানো, এতে পানি থাকে নিরাপদ।
২। খোলা পাত্রে পানি দিলে পাখি তাতে পুপ  ( পায়খানা )  করে , সেই পানি আবার পাখি পান করে ফলে পাখির পেট খারাপ হয় কিন্তু ওয়াটার ফিডারে তা হয় না।
৩। পানির ফিডারে পানির তাপমাত্রা অক্ষুণ্ণ থাকে অনেকক্ষণ তাই শীতের সকালে আপনি যদি একটু কুসুম গরম পানি ফিডারে দেন তা অনেক্ষন গরম থাকবে এবং আপনার পাখি আরাম করে পানি খেতে পারবে।
৪। সহজেই ধোয়া যায়।
কিভাবে ব্যাবহার করবেন ?
১। প্রতিদিন দুইবার পানি পরিবর্তন করে দিবেন।
২। দিনে কমপক্ষে একবার ফিডার লবণ গরম পানি দিয়ে ধৌত করবেন।
৩। খাঁচায় এক জোড়ার বেশি পাখি থাকলে একাধিক পানির ফিডার ব্যাবহার করবেন।
বেশিরভাগ ব্রিডারের পছন্দ এবং পরামর্শ হল বিএসবি ( বাজরিগার সোসাইটি বাংলাদেশ) এর  পানির ফিডার ।  কারণ বিএসবি এর ওয়াটার ফিডার ফুড গ্রেড মানের এবং নিরাপদ। 
প্রাপ্তিস্থানঃ কাঁটাবন, টঙ্গি, মিরপুর-১, মোহাম্মদপুর, বগুড়া এবং চট্টগ্রামের সৌখিন অ্যাকুরিয়ামে পাওয়া যায়। প্রতি পিসের মুল্য ২৫ টাকা মাত্র।

কোয়েল পালন সম্পর্কিতপ্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্নঃ  কোয়েল কত দিনে ডিম দেয় ? উত্তরঃ  কোয়েল পাখি সাধারনত ৪৫ দিন বয়স থেকে ডিম দিতে শুরু করে । তবে বাস্তবে প্রায় ৫৫ - ৬০ দিন সময় লেগে ...